বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মাংস আলু ঘাটি’

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ১৩:০০

বগুড়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় মাংস আলু ঘাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগে মাছ দিয়ে আলু ঘাটি হলেও গত কয়েক বছরে মাংস দিয়ে আলু ঘাটি ভোজনরসিকদের মন জয় করে নিয়েছে। যে একবার এই মাংসের আলু ঘাটি খেয়েছে সে বারবার খেতে চায়।

কীভাবে কেমন করে বগুড়ার এই মাংস দিয়ে আলু ঘাটির প্রচলন হলো তার বিস্তারিত তথ্য জানা না গেলেও ভোজনরসিকরা জানান, বগুড়াসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মাছ দিয়ে আলু ঘাটির প্রচলন ছিল। সেই আলু ঘাটি থেকেই মাংস আলুর প্রচলন হয়েছে। এই খাবারটি এক পাকে রান্না করে খাওয়াতে সুবিধার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মজলিশ, বন্ধুদের নিয়ে মিলনমেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠানে মাংস দিয়ে আলু ঘাটি করা হয়। মাংস দিয়ে আলু ঘাটির আয়োজন করলে যিনি এমনি খাবারে আসতে চান না তিনিও খেতে আসেন। এখন এই খাবার বগুড়াকেন্দ্রিক নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে কেউ বেড়াতে এলে এই আলু ঘাটি খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সঙ্গে তো বগুড়ার দই থাকে।

মূলত এটি গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা হয়। তবে কোথাও কোথাও খাসির মাংস দিয়েও রান্না করা হয়। এটি তৈরি করতে প্রথমে আলু সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর আলুগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙে নিতে হবে। এরপর প্যানে তেল গরম করে নিয়ে তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও এলাচ হালকা ভেজে মিশিয়ে দিতে হয় পেঁয়াজ কুচি। পেঁয়াজ বাদামি হয়ে এলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে ভেজে একটু পানি দিতে হবে। তারপর স্বাদমতো লবণ, মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও ধনে গুঁড়া মিশিয়ে দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এরপর ধুয়ে রাখা মাংসগুলো ঢেলে দিতে হবে। ভালো করে নেড়ে নিতে হবে, যাতে মসলাগুলো মাংসের সঙ্গে মিশে যায়। এরপর ঢেকে চুলায় বসিয়ে হালকা আঁচে মাংস সেদ্ধ হতেই আলুগুলো মিশিয়ে দিতে হয়। এরপর ভালো করে কষিয়ে নিয়ে তিন-চার কাপ পানি ও কাঁচা মরিচ দিতে হবে। ৮-১০ মিনিট জাল দেওয়ার পর চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর অন্য একটি পাত্রে তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে বাদামি করে ভেজে নিয়ে কালোজিরা ও পাঁচফোড়ন দিয়ে হালকা ভেজে আলু ঘাটির ওপর ছিটিয়ে দিতে হবে। হয়ে গেল বগুড়ার মাংস আলু ঘাটি। এক বার খেলে এর স্বাদ সব সময় মুখে লেগে থাকবে। বগুড়ায় বাড়ি অথচ আলু ঘাটি পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। মোটামুটি সব সামাজিক অনুষ্ঠানে আলু ঘাটি বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া বিয়েবাড়িতেও আলু ঘাটি রান্না হয়।

আলু ঘাটি বাসাবাড়ি ছাড়াও বাবুর্চি দিয়েও রান্না করা হয়। বাবুর্চি শাজাহানের মতে মানুষজন এখন ঝামেলার জন্য এক পাকে আলু ঘাটি করে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন। আগে একটি অনুষ্ঠানে খাবারের বেশ কয়েকটি পদ তৈরি করতে হতো। এখন এক পাকেই ভোজনরসিকদের খাওয়ানো যাচ্ছে। এজন্যই হয়তো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে স্বাদেরও একটি ব্যাপার রয়েছে। আলু ঘাটি পছন্দ করেন এমন একজন মানুষ প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ।

তিনি বলেন, আমি সিরাজগঞ্জের মানুষ হলেও বগুড়ার এই আলু ঘাটি অনবদ্য। যার তুলনা করা যায় না। এক দিন দইয়ের মতো এই আলু ঘাটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

ইত্তেফাক/এমআর