শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা

থাকার জায়গা নেই, বেড়েছে গাড়িভাড়া ও খাবারের দাম

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ০৭:০৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ সোমবার (২৫ জুলাই) শুরু হবে। চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। কিন্তু এর আগেই গত শুক্রবার থেকে নগরীতে বেড়ে গেছে গাড়ি ভাড়া ও খাবারের দাম। একই সঙ্গে রয়েছে আবাসন সংকটের সমস্যা। অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মহানগরীর কুমারপাড়ার সজিব তার আত্মীয়ের জন্য দুই দিন ধরে আবাসিক হোটেলে সিট খুঁজছেন। শহরের প্রায় অধিকাংশ হোটেলে গিয়েও সিট পাননি তিনি। সজিব বলেন, কোথাও কোনো সিট নেই। এক আত্মীয় এবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসবে। তাই ২৫ তারিখের একটি সিট দরকার ছিল, কিন্তু পাইনি। মহানগরীর কাদিরগঞ্জের আবরার বলেন, চার দিন খুঁজেছি কোনো আবাসিক হোটেলে সিট পাইনি। শুধু আবরার কিংবা সজিবই নন; মহানগরীতে প্রায় প্রতিদিনই হাজারো শিক্ষার্থীর অভিভাবক-পরিচিতজনরা সিটের পেছনে ছুটেও কোথাও পাচ্ছেন না। রাজশাহী আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসান কবির বলেন, প্রতি বছরই এই সময়টায় এ ধরনের সংকট তৈরি হয়। আমরা হোটেল মালিকরা এই সময়টায় বিব্রত হই, বিড়ম্বনাতেও পড়ি। কারণ চেনাজানা অনেকেই আছেন, যারা হোটেলে সিট চান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী সিফাত। তিনি গত শনিবার মহানগরীর মির্জাপুর এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন। গতকাল রবিবার বিকালে ঘুরতে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে ফিরেছেন মির্জাপুরে। তিনি বলেন, মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আসেন ২০ টাকায়। কিন্তু বিনোদপুর থেকে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি যাওয়ার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। আবার কেউ কেউ ৫০ টাকাও ভাড়া চাচ্ছেন। কিন্তু আত্মীয়ের কাছে শোনা বিনোদপুর থেকে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ভাড়া মাত্র ১০ টাকা।

ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের বাড়তি চাপের সুযোগ নিয়ে রাজশাহীতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে রাজশাহী মহানগরীর ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা যাত্রীদের মধ্যে। কাজলা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া আফরিন বলেন, তিনি প্রতিদিন কাজলা থেকে সাহেববাজার যান অটোরিকশায় করে। কাজলা থেকে সাহেববাজারের ভাড়া আট টাকা। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে ১০ টাকা নেওয়া হলেও শনিবার ১৫ থেকে ২০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বেশি কেন নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে অটোরিকশা চালকরা দুর্ব্যবহার করছে। চালকরা বলছেন, গেলে যান, না গেলে সরে যান।

অটোরিকশা ভাড়ার মতোই বেড়েছে খাবার হোটেলে বিভিন্ন খাদ্যের দামও। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান ক্লাস শেষে তালাইমারীর একটি হোটেলে সহপাঠীদের নিয়ে গত শনিবার দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। আতিকুর রহমান বলেন, সেই হোটেলের ওয়েটার জানান, দুপুরে গরুর মাংস ও ভাত ছাড়া আর কোনো খাবার ছিল না। বাধ্য হয়েই তারা সেই খাবার দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করেন। খাবারের বিল জানতে চাইলে বলা হয় জনপ্রতি ২২০ টাকা করে। সেখানে তারা প্রতিবাদ করেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এক প্লেট ভাত আর তিন পিস গরুর মাংস কি করে ২২০ টাকা হয়। ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ব্যক্তি তাদের বলেন, খেয়েছেন এখন টাকা দেন। বাধ্য হয়ে তারা ২২০ টাকা করে পরিশোধ করেন।

আতিকুর রহমান অভিযোগে বলেন, ঐ হোটেলে মাছ, মুরগি, সবজি, ভর্তা ও ডালও ছিল। কিন্তু তারা সেগুলো পরিবেশন করেনি। তারা ইচ্ছামত দাম বাড়াতে শুরু করেছে। আতিকুরের মতো রাজশাহীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের মূল্য বৃদ্ধি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। ভোক্তারা বলছেন, অযৌক্তিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসছেন তারা সবাই আমাদের অতিথি। অতিথিদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে রাজশাহীর সম্মান ক্ষুণ্ন হবে।

মহানগরীর অটোরিকশা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজশাহী ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলামের নম্বরে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের ভেতরের কোনো দোকানে খাবারের অতিরিক্ত দাম কিংবা যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ইউনিটে ৪ হাজার ২০ আসনের বিপরীতে এবার ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিতে রাজশাহী আসবেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৮ পরীক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আসবেন অভিভাবক। সব মিলিয়ে বাড়তি অন্তত প্রায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষের চাপ এখন রাজশাহীতে।

ইত্তেফাক/ইআ