ফুলবাড়ী পৌরশহর ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ছাড়াও বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটে নাকাল পথচারীসহ মানুষ। সড়কে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড, ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা এবং সড়ক-ফুটপাত দখল করে ব্যবসার কারণে যানজট হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উপজেলা পৌরশহরের এবং অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌরশহরের নিমতলা মোড়, উর্বশী সিনেমা হল মোড়, বাসস্ট্যান্ড মোড়, রেল ঘুমটি মোড়, ঢাকা মোড়, ননীগোপাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অসহনীয় যানজট মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
শিক্ষক তোজাম্মেল হোসেন বলেন, সড়কের ওপর স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন কোম্পানির মোটরসাইকেল রাখায় যানজট হচ্ছে। স্ট্যান্ড ও পার্কিংয়ের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। পৌর শহরের ব্যস্ততম সড়কে ট্রাফিক পুলিশের যেমন ব্যবস্থা নেই, তেমনি নেই পৌরসভা থেকে সড়ক স্বাভাবিক রাখার জন্য কোনো লোক। চকচকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিশু সরকার বলেন, নিমতলা মোড়সহ প্রায় প্রত্যেকটি ব্যস্ততম সড়কে পরিবহন রাখা এবং সড়কসংলগ্ন, কোনো কোনো স্থানে সড়কের ওপর ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় এই অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীসহ যানবাহনের যাত্রীসাধারণকে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পূর্বে ফুলবাড়ী পৌরশহরের ব্যস্ততম সড়ক এলাকা নিমতলা মোড় ও ঢাকা মোড়ে সার্বক্ষণিকভাবে একজন ট্রাফিক পুলিশের সার্জনসহ কয়েক জন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করলেও আকস্মিকভাবে তাদেরকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে সড়ক হয়ে পড়েছে অরক্ষিত ও অভিভাবকহীন। অন্যান্য কাজের ফাঁকে থানাপুলিশকেই সড়ক নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় থানাপুলিশকেই সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বিক কাজ করতে হচ্ছে। তবে সড়ক পথকে নিরাপদ রাখতে থানাপুলিশ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। পৌরসভার মেয়র মো. মাহমুদ আলম লিটন বলেন, পৌরশহরের যানজট নিরসনে পৌরসভা কাজ করছে। ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া হলে অনেকটাই যানজট নিরসন হবে। তবে আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় পৌরসভা থেকে সড়কপথকে স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে লোক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সড়কপথে যানজট নিরসনসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রায় সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জেল-জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। তবে ট্রাফিক পুলিশ স্থায়ীভাবে ফুলবাড়ীতে বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
