টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ১৩০ পদ শূন্য থাকায় পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ জুলাই) উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাই, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর এবং বাঁশতৈল ১৪ ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭০টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক থাকার কথা প্রায় ১২০০। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ২০১৮ সালে ৬৩ জনকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক আবার অবসরে চলে যাচ্ছেন। নতুন করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষখ নিয়োগ হচ্ছে না। ১২শ শিক্ষকের বিপরীতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০ জন। ১৩০ জন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলা সদরের ২৩ নম্বর বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষখ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয় মির্জাপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল জেলা, ময়নমনসিংহ অঞ্চল এবং ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ এবং বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় এবং শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের পুরস্কার লাভ করে। অথচ এই স্বনামধন্য বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষক স্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত নানা সমস্যায় জর্জরিত।
শিক্ষকরা জানান, এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৭০ জন। শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক প্রয়োজন ১৪ জন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৯ জন। প্রধান শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় ৯ জন শিক্ষকের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় হয়েছে। তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো ওয়াশ ব্লক ও পর্যাপ্ত বাথরুম। একদিকে শিক্ষক স্বল্পতা অপর দিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে এই বিদ্যালয়ে পাঠদানে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষক স্বল্পতাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত সরিষাদাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমরাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামুর্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পেকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ছাড়াও সিবিএ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মারিষনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাণ্ঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উফুলকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ার্শি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজগানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁববাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ব্যাপারে তিনজন প্রধান শিক্ষক এবং পাঁচজন সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা তাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে তাদের একটানা ক্লাস নিতে হয়। একটানা ক্লাস নিতে গিয়ে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অল্প সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রদানের জন্য তারা উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা সচিব এবং মন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক থেকে ৬৩ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন। আবার প্রতি বছর অনেক শিক্ষক অবসরে চলে যাচ্ছেন। মির্জাপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বেশ কিছু পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় পাঠদানে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ হলে শিক্ষক স্বল্পতা কেটে যাবে।’
