বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভরা মৌসুমেও পদ্মায় মাছের দেখা নেই, জেলেরা অসহায়

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ১৪:১৪

ভরা বর্ষা মৌসুমেও ঈশ্বরদীস্থ পদ্মায় মাছের দেখা নেই। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পদ্মার  উতাল-পাতাল ঢেউ দুকূলে আছড়ে পড়ে। কিন্তু এবার পদ্মায় পানি নেই। পানির প্রবাহ না থাকায় মাছ ধরার ব্যস্ততাও নেই জেলেদের। নৌকা ও জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে দিন-রাত চষে বেড়ালেও মাছের দেখা মিলছে না। 

জেলেরা জানিয়েছেন, পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট, সাঁড়া ঘাট ও লক্ষ্মীকুন্ডায় জেলেদের জালে খুব একটা মাছ উঠছে না। মাছ না পেয়ে পাকশী গুড়িপাড়া, সাঁড়া ব্লকপাড়া, ৫ নম্বর ঘাট ও লক্ষ্মীকুন্ডার জেলেরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

বুধবার (২৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পদ্মার সাঁড়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রাতভর জেলেরা মাছ ধরে একে একে নৌকা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। রাতের ধরা মাছ সাঁড়া ঘাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। সারারাত জালে ধরা পড়া মাছ দেখে জেলেরাই হতাশ। এ মাছ বিক্রি করে তাদের দিন হাজিরা উঠছে না।

সাঁড়া ঘাট এলাকার জেলে শুসিল বলেন, শ্রাবণ মাসে নদীতে টইটম্বুর পানি থাকার কথা।  কিন্তু এবার তো পানি, মাছ কোনোটাই নেই। দিনরাত মাছ ধরে ২০০-৩০০ টাকার বেশি হাজিরা হয় না। তাই অনেকেই নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না। বেকার ও অলস সময় কাটাচ্ছেন।

হাজরা মণ্ডল বলেন, দশ বছর বয়স থেকে মাছ ধরি। এখন ৪০ পেরিয়েছে। আমরা জাত জেলে। বাপ-দাদারা সবাই পদ্মায় মাছ ধরে জীবন কাটিয়েছেন। কখনো মাছের এমন সংকট দেখিনি। রাতভর ৫ জন নৌকা নিয়ে মাছ ধরেছি। ভোরে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। নৌকা ও জাল বাবদ মহাজনের ১,০০০ টাকা দিয়ে বাকি ১৫০০ টাকা ৩০০ টাকা করে ভাগ করেছি। রাতে নিজেদের খাওয়া-দাওয়া বাবদ আরও ৫০ টাকা করে খরচ হয়েছে। ২৫০ টাকা হাজিরা দিয়েতো সংসার চলে না। 

লক্ষ্মীকুন্ডার জেলে আমজাদ হোসেন জানান, জেলেদের খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। নদীতে  পানি না থাকায় মাছ নেই। ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে সারাদিনে আধাকেজি কেজি মাছ ধরা যায় না। আধাকেজি মাছ ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয় না।

সাঁড়া মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, সমিতির সদস্য ১৩২ জন। সদস্য ছাড়াও এ ঘাটে জেলের সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন। এখানকার জেলেরা বাচা, চিংড়ি, গাঙঘারি, বাঁশপাতা, পিয়ালি, কাচকিসহ হরেক রকম মাছ ধরে। এখানে ইলিশ এখন খুব একটা ধরা পড়ে না। জেলেদের এমন দুর্দিন আগে দেখা যায়নি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকসেদ আলী জানান, প্রতিদিন ভোরে সাঁড়া ঘাটে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হতো। এখন ৩০ হাজার টাকার মাছও বেচাকেনা হয় না। মাছ পাওয়া যায় না বলে এখানকার জেলেরা অনেকেই নদীতে যান না। এখানে শতাধিক মাছ ধরার নৌকা থাকলেও মাত্র ২৫-৩০টি নৌকা নদীতে যায়।

সাঁড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা সরদার বলেন, নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেদের খুব দুর্দিন যাচ্ছে। সহযোগিতার জন্য অনেকেই আসছেন। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না আসায় তাদের সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, পদ্মায় প্রতিবছরই এ সময় পানিতে ভরপুর থাকে। বর্ষায় মাছের প্রজনন হয়। এবার নদীতে পানি না থাকায় মাছের প্রজনন হয়নি। আশা করছি খুব শিগগিরই পানি বাড়বে। পানি বাড়লে মাছও বাড়বে।

সরকার জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ভ্যান, সেলাই মেশিন ও ছাগল বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। গতবছর জেলেদের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হলেও এবার বিতরণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ এলে জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/মাহি