ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক পেলেন ফেরদৌসী ও হাদী  

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ২০:০৩

বাংলাদেশের বরেণ্য সংগীত শিল্পী ফেরদৌসী রহমান ও সৈয়দ আব্দুল হাদী 'ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ও পুরস্কার-২০২২' পেয়েছেন। বুধবার (২৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
 
ফিরোজা বেগম উপমহাদেশে নজরুল সংগীতের কিংবদন্তী শিল্পীর। মহান এই শিল্পীকে স্মরনীয় রাখতে এসিআই ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবর্তিত হয় 'ফিরোজা বেগম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড।' প্রখ্যাত এই কণ্ঠশিল্পীর জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৬ সাল থেকে 'ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্নপদক দেয়া হচ্ছে।  দেশের কীর্তিমান শিল্পীদের সম্মান জানাতে ও দেশীয় শুদ্ধ সংগীত চর্চার প্রতি নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে এই প্রয়াস। 

করোনার কারণে গত দুই বছর পদক দিতে বিশ্ববিদ্যালয়। এবছর একইসাথে ২০২০ সালের জন্য বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ফেরদৌসী রহমান এবং ২০২১ সালের জন্য সৈয়দ আব্দুল হাদীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। 

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট প্রদান ও নগদ এক লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ড এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)  অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ পুরস্কারের মাধ্যমে ফিরোজা বেগম যে মূল্যবোধ লালিত করতেন তা আমরা বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলেন ধরতে এ প্রয়াস।  আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীরা ফিরোজা বেগমের মূল্যবোধকে ধারণ করে নিজেকে তৈরি করবে৷ এসময় তিনি এসিআই ফাউন্ডেশন কে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান 'ফিরোজা বেগম স্বর্নপদক ' পুরস্কারে অর্থায়নের জন্য।

শিল্পী ফেরদৌসী রহমান বলেন, আজকে আমার জন্য সত্যিই  অদ্ভুত সুন্দর একটা দিন। সোনার মেডেল পেয়েছি বলে নয়, অনেক ফুল পেয়েছি বলে নয়, সম্মাননা পেয়েছি বলে নয়। আজকে ওনার (ফিরোজা বেগম) সম্পর্কে একটু বলার সুযোগ পেয়েছি বলে খুবই ভালো লাগছে। নজরুল ইনস্টিটিউটে আপার সাথে যখনই দেখা হতো, তখন আমরা আলাদা করে কথা বলতাম। তিনি আমার কাছে চিংড়ি মাছের রান্না খেতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমি সেটা খাওয়াতে পারি নাই। মেধা আর পরিশ্রমের দুটোরই সংমিশ্রণ ছিল ফিরোজা আপার সাধনায়। খাওয়ার কথা বাদ দিয়ে ঘর বন্ধ করে সকাল থেকে রেওয়াজ করতো নিয়মিত। তিনি আসল সাধিকা ছিলেন। শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিষ্ঠা ও প্রেম ছিল ওনার। সংগীতের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে আছে এবং থাকবে। 

সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, আজকে পদক নিচ্ছি এটা সত্যিই আনন্দদায়ক। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আজকের এই দিনের মধ্য দিয়ে আমরা ফিরোজা আপাকে স্মরণ করতে পারছি, এটা সবচেয়ে বড় আনন্দের। 

এসিআই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম. আনিস উদ দৌলা বলেন, মানুষ অমর হয় তার কর্মের মাধ্যমে। নিজের কাজকে কালজয়ী করতে প্রয়োজন হয় মেধার এবং কঠোর পরিশ্রমের৷ খুব অল্প সংখ্যক লোকই এই অসাধ্য সাধন করতে পারে, তার মধ্যে ফিরোজা বেগম একজন। তিনি সংগীতকে করেছেন মহিমান্বিত এবং নজরুল সংগীতকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির।

 

ইত্তেফাক/এআই