প্রিমিয়ার শো’তে প্রশংসা কুড়ালো ‘হরিবোল’

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ২০:২৩

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো। গত ২৩ জুলাই (শনিবার) কেবলমাত্র আমন্ত্রিত দর্শকদের জন্য 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

আনিসুজ জামান নিবেদিত ও বলেশ্বর ফিল্মস প্রযোজিত 'হরিবোল' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন প্রতিশ্রুতিশীল কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা রেজা ঘটক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি প্রান্তিক পরিবারের গল্প উঠে এসেছে ‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রে। যেখানে গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা ও তার শাখা নদীগুলোর করুণ পরিণতির সাথে মতুয়া পরিবারটির দেশান্তরী হওয়ার জটিল ঘটনাবলীকে মেটাফরিক ডিসকোর্সে দেখানো হয়।

সিনেমাটি মূলত বলেশ্বর জনপদের গল্প, যেখানে অসংখ্য মনতাজ ও মেটাফোর ব্যবহার করে বলেশ্বর জনপদের ভৌগলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাবলীর পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের নদী ও গ্রাম বাংলার প্রকৃতি ও মানুষ ‘হরিবোল’ সিনেমার ক্যানভাস।  

ছবি: সংগৃহীত

'হরিবোল' প্রিমিয়ার শো শেষে সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা রেজা ঘটক বলেন, ‘হরিবোল’ আমার ডেব্যু ফিল্ম। ২০১৭ সালে ‘হরিবোল’-এর নির্মাণযজ্ঞ শুরু করি। ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর 'হরিবোল' চলচ্চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা দেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত 'হরিবোল' সিনেমাটির সেন্সর ছাড়পত্র মেলেনি।

রেজা ঘটক জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমাকে 'ডোডো'র গল্প' চলচ্চিত্রের জন্য সরকারি অনুদান প্রদান করেন। সরকারি অনুদানের ছবি 'ডোডো'র গল্প' বানানোর জন্য মানসিকভাবে এখন আমার নেক্সট সিনেমায় মনোযোগ দেবার সময়। তাই মানসিকভাবে মুক্তির জন্য আমি 'হরিবোল' সিনেমার প্রিমিয়ার শো করেছি।

‘ডোডো’র গল্প’ সিনেমাটির প্রযোজক মো. নাজমুল হক ভুঁইয়া (খালেদ), কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা রেজা ঘটক। এটি একটি জি-সিরিজ উদ্যোগ। 'ডোডো'র গল্প'রেজা ঘটকের দ্বিতীয় ছবি।  

'হরিবোল' সিনেমার প্রিমিয়ার শো-তে উপস্থিত ছিলেন 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের নিবেদক ও কো-প্রডিউচার আমেরিকা প্রবাসী লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ জামান ও তার পরিবার, সিনেমার অনলাইন পার্টনার জি-সিরিজ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খাদেমুল জাহান ও জি-সিরিজ পরিবার, এবং 'হরিবোল' সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুলশীবৃন্দ।

'হরিবোল' চলচ্চিত্রের প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী ফয়সল, ইকতারুল ইসলাম ও তৃপ্তি সরেন। অন্যান্য বিশেষ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হোসেন, সেলিম হয়াদার, ইউসুফ ববি, প্রণব দাস, জাহিদ হাসান, লিয়াকত লিকু, রণজিৎ মণ্ডল, মনোজ মণ্ডল, বিধান বিশ্বাস, এমদাদুল হক হাওলাদার, জীবন কৃষ্ণ ঘরামী, স্বপন পাল, মুক্তি মণ্ডল, চিন্ময় চক্রবর্তী, লিয়াকত খান, অমিত, চন্দন ও বানিয়ারী গ্রামবাসী।

ছবি: সংগৃহীত

‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রে মিউজিক ডিরেকশন দিয়েছেন ভারতের প্রতিশ্রতিশীল মিউজক কম্পোজার অংশুমান। তিনি 'হরিবোল' সিনেমার তিনটি গান লিখেছেন, তিনটি গানে সুর করেছেন, দুটি গান নিজে গেয়েছেন এবং ভবা পাগলার একটি গান নতুন করে কম্পোজ করেছেন, যেটি সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন ভারতের জনপ্রিয় বিশিষ্ট ফোক-শিল্পী সাত্যকি ব্যানার্জী।

‘হরিবোল’ সিনেমায় অংশুমানের একটি গানে প্লে-ব্যাক করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ফোক-শিল্পী বাউল সফি মণ্ডল। এতে লালন শাহ-এর একটি গানে স্টেজ পারফর্ম করেছেন বাউল নলীনি মণ্ডল।

'হরিবোল' সিনেমার অসাধারণ সাউন্ড ডিজাইন করেছেন ভারতের কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সাউন্ডের শিক্ষক অরিজিৎ মিত্র। সাউন্ড মিক্সিং করেছেন ভারতের সুজয় দাস। কালার করেছেন ভারতের মো. আমির, সম্পাদনা করেছেন প্রণব দাস এবং সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন মাহফুজ ইসলাম, সেলিম হায়দার, জাহিদ হাসান, প্রণব দাস ও রেজা ঘটক। 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের স্থিরচিত্র ধারণ করেছেন দেবাশিস গুপ্ত, চিন্ময় চক্রবর্তী ও জাহিদ রবি।

‘হরিবোল’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত

'হরিবোল' সিনেমার টাইটেল করেছেন সব্যসাচী হাজরা, সাব-টাইটেল করেছেন ভারতের সম্বৃদ্ধি পাল ও নির্মাতা রেজা ঘটক। নির্মাতা রেজা ঘটক জানান, খুব শীঘ্রই সেন্সর জটিলতা শেষ করে 'হরিবোল' সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভালে 'হরিবোল' সিনেমাটি অংশ নেবে।

এর আগে ১৯ জুলাই ২০২২ কানাডার ৫ম টরোন্টো মাল্টিকালচারাল ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ১৮ থেকে ২৩ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী ফেস্টিভালে ৪৯টি দেশের ১৩৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, তার মধ্যে ‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রটি বেশ প্রশংসিত হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ