বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জার্মান শিল্পীর শিল্পকর্মে সেজেছে চবির শাটল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ২১:১৫

শাটল শব্দটি শুনলেই মাথায় আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সার্ভিসটি চালু থাকলেও বর্তমানে কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর অস্তিত্ব রয়েছে। তাই পৃথিবীর বুকে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শাটলের একক দাবিদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

এটি এমন একটি বাহন, যার সঙ্গে মিশে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেগ, দীর্ঘ স্মৃতি ও ঐতিহ্য। একইভাবে তাদের গর্বের একটা বিশাল জায়গাজুড়েও রয়েছে এই শাটল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শাটলের গৌরবান্বিত স্বকীয়তা, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সময়ের সাথে মৃতপ্রায়। ব্যতিক্রমী হেলিকপ্টার বগির যেমন পরিবর্তন ঘটেছে, বগির গায়ের বৈচিত্র্যময় আল্পনা, রঙ তুলির আঁচড়ও তেমনি নেই।

এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেনকে বিভিন্ন শিল্পকর্মে রাঙানোর উদ্যোগ নিয়েছেন জার্মানির আরইউএসবি আর্ট গ্রুপের প্রধান শিল্পী লুকাস জিলিঞ্জার। স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে এবং নিজস্ব অর্থায়নে তিনি এ কাজটি করছেন। পাশাপাশি তাঁকে এই কাজে সহযোগিতা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শাটল ট্রেন রাঙাচ্ছেন জার্মান শিল্পী লুকাস

এর আগে গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জার্মান শিল্পী লুকাস জিলিঞ্জার। সেখানে তিনি শাটল ট্রেনের বগিগুলো নান্দনিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে সাজানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু শাটল ট্রেন যেহেতু রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি, তাই রেলওয়ের অনুমতিরও প্রয়োজন হয়। সবশেষ, সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শাটল ট্রেন সাজানোর কাজ শুরু করেন এই জার্মান শিল্পী।

আমাদের শাটল ট্রেনে আগে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম ছিল। আমাদেরও শাটল ট্রেন সাজানোর পরিকল্পনা ছিল। আমরা তাঁর প্রস্তাবটি বিবেচনা করে তাঁকে শিল্পকর্মের অনুমতি দেই, জানালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান।

মূলত গত শুক্রবার সকাল থেকে এই শিল্পকর্মের কাজ শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনে রঙের কৌটা ও তুলি হাতে কর্মব্যস্ত অবস্থায় দেখা যায় তাকে। নিজের কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে শিল্পী লুকাস জিলিঞ্জার জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক অরূপ বড়ুয়ার মাধ্যমে শাটল ট্রেনের খবর পান তিনি। এরপর স্ত্রী লিভিয়াকে নিয়ে ছবি আঁকার পরিকল্পনা করেন। এতে কিছুটা অর্থায়ন রয়েছে শিক্ষক অরূপ বড়ুয়ার।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা ঋতু বলেন, অবশ্যই এটি আমাদের জন্য অনেক পাওয়া। এতদিন পরে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় ভালো লাগছে। তবে সাথে সাথে যদি শাটলের বিভিন্ন সমস্যা ভেতরের ফ্যান, জানালা ঠিক করা হয়, সেটি আরও ভালো হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিল্পকর্মে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, সংসদ ভবন, সিআরবি, সূর্যাস্তের দৃশ্য, পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য স্থান পাবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম