বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তুষির অন্তরের ‘হাওয়া’

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০১:২৮

আগামীকাল শুক্রবার (২৯ জুলাই) মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’। এ ছবির প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। করছেন কনসার্ট। দর্শকের সাথে ‘হাওয়া’র উন্মাদনায় মাতছেন। রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’র পর ফের বড়পর্দায় এ ছবির মাধ্যমেই হাজির হচ্ছেন মিষ্টি হাসির নায়িকা নাজিফা তুষি। তরুণ দর্শকের উন্মাদনায় মুগ্ধ তিনি। 

তুষি জানালেন, এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। সিনেমার প্রচারণার জন্য কনসার্ট হচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীরা আমাদের যে ভালোবাসা ও সম্মান দিচ্ছে তা দেখে আমি অভিভূত। আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। সিনেমা মুক্তির পরও আমি প্রচারণায় থাকতে চাই। কারণ, ‘হাওয়া’ আমার অন্তরের সিনেমা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শুধু নয়, অন্তর্জালেও নেটাগরিকরা মেতেছেন ‘হাওয়া’ উৎসবে। তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ হাসিম মাহমুদের লেখা ও আরফান মৃধা শিপলুর গাওয়া ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে বুঁদ। সাথে যোগ হয়েছে মেঘদল’র ‘এ হাওয়া’। এ উন্মাদনা প্রসঙ্গে তুষি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হাওয়া’র প্রচারণা করছে দর্শক। আমরা গান ও ট্রেলার ছেড়েছি। বাকি কাজ দর্শক ভালোবেসে করছে। প্রতিটি শ্রেণির মানুষ ‘হাওয়া’য় মেতেছে। নিজের কাজ যখন দর্শক পছন্দ করে, তখন ভালো লাগা অনেক বেড়ে যায়। আমারও ভালো লাগছে।’

হাওয়া চলচ্চিত্রের নায়িকা নাজিফা তুষি ও নায়ক চঞ্চল চৌধুরী।

‘হাওয়া’ ছবিতে তুষি ছাড়াও অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, সোহেল রানা, সুমন আনোয়ার, শরীফুল রাজ, নাসির উদ্দিন প্রমুখ। এ ছবিতে তুষির চরিত্রের নাম গুলতি। শুটিং হয়েছে মাঝ সমুদ্রে। ঝড়ের কবলেও পড়েছিলেন তারা। সে অভিজ্ঞতা জানিয়ে তুষি বলেন, ‘এখন মনে হয় অসাধ্য সাধন করেছি। আমাদের প্রস্ত্ততির অংশ হিসেবে ছয় মাস চরিত্রটি ধারণ করেছি। ছয় মাস বিছানায় ঘুমাইনি। মাছ কাটতাম। শাড়ি পরতাম। ‘গুলতি’ হয়ে ওঠার জন্য বেদে পল্লীতে গিয়েছি। ওদের সাথে থেকেছি। শুটিংয়ে এক মাস মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি। অন্যরাও তেমন জীবন যাপন করেছে। আমরা জানতাম ‘ডু অর ডাই’ অবস্হা হতে যাচ্ছে। আমার করা সবচেয়ে কঠিন চরিত্র ‘গুলতি’।’

নিজের চরিত্র ‘গুলতি’ নিয়ে জানতে চাইলে তুষির সহাস্য উত্তর, ‘এটি একটি রহস্যময় চরিত্র। ওর মধ্যে যে রহস্য আছে তা ধাপে ধাপে উন্মোচন হয়। সে আসার পর থেকে গল্পের বাঁক বদলাতে থাকে। প্রেক্ষাগৃহে দেখলে দর্শক বুঝতে পারবে চরিত্রটি কেমন।’

হাওয়া চলচ্চিত্রে নায়িকা নাজিফা তুষি।

‘আইসক্রিম’-এ কাজের পর সিনেমাই করতে চেয়েছেন তুষি। তখনো ওটিটির প্রভাব পড়তে শুরু করেনি। সে সময়ের কথা মনে করে তুষি বলেন, ‘হাওয়া’ করার আগে জানতাম না সিনেমার প্রস্তুতি কেমন হয়। অভিনয়ের প্রথম স্কুলিং হয়েছে ‘হাওয়া’য়। আমার কাছে শুটিং শুরু করার পূর্ব-প্রস্তুতি খুব মজা লাগে। এরপর প্রাচ্যনাট স্কুল অব একটিং অ্যান্ড ডিজাইনে কোর্স করেছি। সৈয়দ জামিল আহমেদ স্যারের কাছে শিখেছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অভিনয়ের কোর্স করেছি। জানার মধ্যেই ছিলাম। অভিনয়ের চর্চা করেছি।’

তুষি দর্শকের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চান না। তিনি মনে করেন ভালো লাগলে দর্শক ‘হাওয়া’ দেখবে। তবে, প্রচারণায় দেখা দর্শকের আগ্রহ তাকে আশাবাদী করে তুলছে। মনে করিয়ে দিলেন ‘হাওয়া’র প্রচারে এসে দর্শক তার অভিনয়ের প্রশংসা করছে। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজের জিশা চরিত্রটি দর্শক ভীষণ পছন্দ করেছে। দেখা হলেই আমাকে বলছে। তাদের ভালো লাগা আগামীতে কাজ আরও মনোযোগ দিয়ে করার অনুপ্রেরণা জোগায়। মনে হয়, বেঁচে আছি অভিনয়ের জন্য। এ কাজটি ভালো পারি। ভালোবাসি। দীর্ঘদিন চর্চা করেছি। আমার ভেতরে লালন করি। আমি চাই, কাজ দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে।

ইত্তেফাক/ইআ