দুই দশক আগে নির্মাণ করা হয়েছিল জেলা শহরে শিশুদের জন্য একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র ‘শেখ রাসেল শিশু পার্ক’। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় পার্কটির এখন বেহাল অবস্থা। প্রতিদিন বসছে মাদকের আড্ডা। এর মধ্যেই সেখানে শিশুদের অভিভাবকের সঙ্গে যাওয়া-আসা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেঁষে থাকা পার্ক জুড়ে আবর্জনা। সৌন্দর্যবর্ধনের গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। মাটি ঢেকে আছে আগাছা ও বড় বড় ঘাসে। দুটি রাইড পুরোপুরি অচল। প্রতিটি যন্ত্র জং পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পলেস্তরা খসে পড়ছে সীমানার দেওয়াল থেকে। ভেতরে থাকা রেস্তে্ারাঁ ভাঙাচোরা। দুজন খেলনাবিক্রেতা ও কয়েক জন বাদামবিক্রেতা ঘুরছে পার্কের ভেতরে। পার্কের দোতলা ঘরে কয়েক জন কিশোর জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। এর মধ্যেই শিশুরা মা-বাবার হাত ধরে পার্কে ঘুরছে।
ছোট্ট শিশুকে নিয়ে ঘুরছিলেন শহরের কলাবাগান মহল্লার আশরাফুন নাহার। তিনি বলেন, ঘরে থাকতে থাকতে শিশুরা বিরক্ত হয়ে ওঠে। বিকাল হলে একটু বাইরে বের হতে চায়। কিন্তু শহরে শিশুদের নিয়ে বেড়ানোর কোনো জায়গা নেই। তাই এই পার্কে আসা। তবে এখানে পরিবেশটা খারাপ হয়ে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের আনাগোনা।
স্থানীয় লোকজন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’ নির্মাণ করা হয়। দুর্জয় পাবনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়। পার্কটিতে শিশুদের জন্য দুটি রাইড ও কিছু দোলনা স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে পার্কের পাশে একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ করা হয়। জেলা শহরে শিশুদের জন্য আর কোনো পার্ক না থাকায় সব সময় এ পার্কে ভিড় লেগে থাকত। নির্মাণের পর এ পার্কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। দিনের পর দিন রাইডগুলো নষ্ট থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এক পর্যায়ে জেলা পরিষদ থেকে পার্কটির দায়িত্ব নেয় জেলা প্রশাসন। তারাও কোনো সংস্কারকাজ করেনি। করোনার প্রকোপ বাড়ার পর ২০২০ সালে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কটি। এতে ঝোপঝাড় জন্মাতে থাকে পার্কে। বাড়ে মাদকসেবীদের আনাগোনা।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, এখানে শুধু পার্কই নয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে। এমন একটি স্থানে নেশাখোরেরা আড্ডা দেবে, বখাটেদের আনাগোনা হবে, এটা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়? সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ জেলায় শিশু অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই| প্রতিটি শিশুর অধিকার নিয়মিত খেলাধুলা ও উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ।
জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আগে জেলা পরিষদ পার্কটি দেখভাল করত। পরবর্তী সময় জেলা প্রশাসন দায়িত্ব নেয়। কিছু জটিলতার কারণে পার্কটির জন্য বরাদ্দ নেওয়া যাচ্ছিল না। এখন সে জটিলতা দূর হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত পার্কটি সংস্কার করে আবার চালু করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।
