সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামের আরেক ওসি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দেড় কোটি টাকা নিয়মবহিভূ‌র্ত স্হানান্তর, সম্পদের তথ্য গোপন

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২২, ০১:৩৯

টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার এক দিন পর চট্টগ্রামের আরেক ওসি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অভিযুক্তরা হলেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সন্দ্বীপ থানার সাবেক ওসি মো. শাহজাহান ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার। মো. শাহজাহান বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টু্যরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

দুদক সূত্র জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে আগেই একটি দুর্নীতির মামলা হয়েছে। বর্তমান মামলাটি হয়েছে মূলত শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তারের বিরুদ্ধে। মামলায় শাহজাহানকে সহযোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম মামলাটি করেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, মো. শাহজাহান ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৩৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন এবং নিয়মবহিভূ‌র্তভাবে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৪১৩ টাকার সম্পদ স্হানান্তর করেছেন।

মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা  মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করার অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে চলমান আছে। আজকের (গতকাল) মামলাটি হয়েছে মূলত মো. শাহজাহানের স্ত্রী ফেরদৌসী আকতারের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর সহযোগী হিসেবে মো. শাহজাহানকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রায় সাড়ে ৪৯ লাখ টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগে মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক রতন কুমার দাশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ওসি থাকাকালে ২০১৭ সালে মো. শাহজানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধানকালে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ শাহজাহান ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল ফেরদৌস আক্তার দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন যা যাচাইয়ের জন্য দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি