শ্বশুরমশাইরা মেয়ে-জামাইদের কাছে একটু বেশিই লাজুক হয়ে থাকেন। মেয়ের বিয়ের পর জামাই বাড়িতে আসবেন বলে অনেককে দেখেছি বাড়ির কাছের বাজারে বসে থাকতে। যখন জামাই বাড়িতে প্রবেশ করেন, ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে ঢোকেন শ্বশুর। মুচকি হাসি দিয়ে জামাইকে বরণ করেন। কুশল বিনিময় করে লাজুক ভঙ্গিতে বিদায় নেন।
জামাইও শ্বশুরের সঙ্গে প্রথম দেখায় লাজুক ভঙ্গিতে বাবা বলে সম্বোধন করেন। বেশিক্ষণ একে-অপরের সামনে থাকেন না কেউ। মনে হয় আড়ালেই স্বস্তি তাদের। তবে, জামাইয়ের মুখে প্রথম বাবা ডাক নতুন শ্বশুররা বেশি উপভোগ করেন। আমাদের দেশে কেউ তো মেয়ে বড় হওয়ার আগেই দাড়ি বড় করে রাখেন, যাতে জামাই-শ্বশুরের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা খুব সহজেই বোঝা যায়।
প্রথম মেয়ের বিয়েতে শাশুড়িরাও খুব লাজুক হয়ে উঠেন। জামাই আসবেন শুনে বড় করে ঘুমটা টানেন শাশুড়ি। জামাই এসে যখন আম্মা বলে ডাকেন, শাশুড়ি লজ্জায় ঘুমটার আড়াল থেকে বলে ওঠেন, জি বাবা বলো। কেমন আছো, তোমার বাবা-মা কেমন আছেন? আর কত কি!
তবে, আমাদের সংস্কৃতিতে ছেলের বউয়ের সামনে শ্বশুরদের তেমন লজ্জা পেতে দেখা যায় না। তারা খুব দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে আসেন ছেলে বউকে অভিবাদন জানাতে। তবুও নতুন বউমায়ের কাছে শ্বশুর যেন একটু লাজুক।
আজ ৩০ জুলাই, শ্বশুর দিবস। আমেরিকায় দিনটি পালিত হয়। ধারণা করা হয়, একটি গিফট কার্ড তৈরির প্রতিষ্ঠান এই দিবস চালু করেছে। তবে ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, তা জানা যায় না। আজ শ্বশুরমশাইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠাতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখতে পারেন তাঁকে নিয়ে। বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা যেতে পারে। শ্বশুরকে দিতে পারেন দারুণ কোনো উপহার।
