বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল: শেখ পরশ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ২১:১৬

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। সোমবার (১ আগস্ট) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আগস্ট মাসব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির প্রারম্ভিক আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি। এটি সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, শোকের মাস আগস্ট। এই মাসে বাংলার ইতিহাসে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ন্যাক্কারজনক এবং জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর। সেই হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পায়নি ৪ বছরের শিশু সুকান্ত বাবু, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল ও আরিফ সেরনিয়াবাত। রক্ষা পায় নাই মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আমার মা আরজু মণি সেরনিয়াবাতসহ নিরীহ অবলা নারী সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এ দিক দিয়ে বিচার করলে এই হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল। কারণ সেদিন নারী-শিশু নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। 

দোয়া মোনাজাত।

এই হত্যাকাণ্ড সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য সম্পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার পূর্বেই আকস্মিকভাবে অস্তমিত করা হয়েছিল। নস্যাৎ করা হয়েছিল বাঙালির দুই শতাধিক বছরের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা প্রতিশোধ নিয়েছিল বাঙালি জাতির ওপর। এই হত্যাকাণ্ড ছিল ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতাকারী দেশি-বিদেশি পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেও ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে মামলাটি প্রত্যাহারে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাধ্য হয়।

সঞ্চালকের বক্তব্যে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আগস্ট মাস শোকের মাস। বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফজরের নামাজের জন্য মসজিদে মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয়, মুসলমানরা যখন ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য গুলি চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তারা হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর প্রধান, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে। এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। আগস্ট মাস বাংলার মানুষের জন্য দুঃখের মাস।

তিনি যুবলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য যুবলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।

দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ।

এ আরও সময় উপস্থিত ছিলেন-প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোয়াদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা: বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মো. সহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. বিপ্লব মুস্তাফিজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. মো. মহি উদ্দিন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শাহীন মালুম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হারিছ মিয়া শেখ সাগর, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক অ্যাড. মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ধর্ম সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিন, উপ-ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্মরণ, উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মিসির আলি, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী, উপ-শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মো. ফিরোজ আল আমিন, উপ-কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোল্লা রওশন জামির রানা, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদ্যসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

ইত্তেফাক/এএএম