বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘নায়ক’ না ‘অভিনেতা’ হতেই চাইছেন অনেকে!

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১৫:১৪

চলচ্চিত্র শিল্পের এই নতুন জোয়ারে নতুন ভাবনার নির্মাতারা যেমন কাজ করছেন। তেমনি তাদের হাত ধরে একঝাঁক অভিনয় শিল্পী নিজেদের দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে নিয়েছেন। এর ভেতরে বারেবারে আলোচিত হচ্ছে যে নামটি, তিনি হলেন শরীফুল রাজ। টানা কয়েকটি ছবিতে কাজের সুযোগ ও নিজের অভিনয় মুন্সিয়ানায় নিজেকে আলাদা ভাবে চিনিয়েছেন তিনি নিজেকে। বিশেষ করে রাফহান রাফি পরিচালিত ‘পরাণ’ ছবিটিতে শরীফুল রাজ যেন নিজের ক্যারিয়ারের একটা বড় টার্নিং নিলেন। 

শরীফুল রাজ রেদওয়ান রনি’র আইসক্রিম দিয়ে চলচ্চিত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেন। এরপর পরাণ, হাওয়াসহ একাধিক ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। শরীফুল রাজ প্রসঙ্গে নির্মাতা রায়হান রাফি বলেন, ‘রাজের আজকের এই অবস্থান প্রসঙ্গে একটি কথাই বলার আছে আমার। তা হলো, রাজ যে কোনো অবস্থানে ‘না’ বলতে জানে। এটা অনেক সাহসের ব্যাপার। ভাল গল্পের জন্য সে অপেক্ষা করেছে দীর্ঘদিন। এই ডেডিকেশনটাই ওকে আজকের রাজ এ পরিণত করেছে।’ 

শরীফুল রাজ বলেন, ‘দেখুন, আমি গড়পড়তা কোনোকিছুই করতে চাইনি জীবনে। এখন একজন নবাগত হিসেবে না বলাটা কিন্তু খুব ঝুঁকিপূর্ণ। সবাই আমাকে অহংকারী, বেয়াদব ভেবে বসে। কিন্তু দিনশেষে তাদের কথাতে আমি কাজটি করে যদি দর্শকদের অনাগ্রহের কারণ হতাম। তাহলে তারাই আবার আমাকে গালিগালাজ দিতো। তাই ক্যারিয়ারটা আসলে নিজের কাছেই। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারো ক্যারিয়ার গড়ে দেয় না। নিজেকেই বেছে বেছে ঠিক পথে হাঁটতে হয়।’

ইয়াশকে মূলত চলচ্চিত্রে অভিষেক করিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। কিউট, ভদ্রছেলের লুকে ইয়াশ এখন নির্মাতাদের অন্যতম পছন্দ। যদিও ইয়াশের এই টাইপড ঘরানা থেকে বেরিয়ে নতুন ডাইমেনশনে প্রত্যাশা করছেন অনেকেই। তবে ইয়াশ নিজেকে নায়ক ইমেজে রাখতে পছন্দ করেন না। বরং অভিনেতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেতে চান। আর বাংলাদেশী সামাজিক গল্পে ইয়াশ বরাবরই দারুণ অভিনয়ে দর্শক চোখকে মুগ্ধ করেছে। 

নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আসলে গল্পটাই সবসময়ই নায়ক। এখন ফ্যান্টাসি সিনেমায় হয়ত আলাদা সুপার হিরোর প্রয়োজন হয়। কিন্তু অভিনেতাকেই দর্শকেরা সামাজিক হিসেবে কাছের মনে করে।’ তবে গল্প নির্ভর চলচ্চিত্রের বাড়তি গ্রহণযোগ্যতার কারণেই চলচ্চিত্রে এখন অভিনেতা হবার প্রতি আগ্রহ অধিকাংশ তরুণের। কেউ কেউ আবার এই নায়ক বা অভিনেতার অংকটিও মানতে চান না। 

চিত্রনায়ক রোশানের মতে, ‘ফিল্মে হিরো বা নায়কোচিত ব্যাপার দরকার হয়। তবে নায়করা যে অভিনেতা না। বা ভার্সেটাইল চরিত্রে কাজ করতে পারে না। এটা একেবারেই ঠিক না। আমি যেমন মারদাঙ্গা অ্যাকশন ছবিতে নায়ক হিসেবে কাজ করেছি। তেমনি সাইকো ছবির পুরোটাই ভিন্নমাত্রার গল্প।’ নতুন এই একঝাঁক অভিনেতা ও তাদের চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেম ও আগ্রহই প্রমাণ করে এদেশে নতুন ভাবনার নির্মাতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ অভিনেতার হাত ধরে চলচ্চিত্র শিল্পের নেতৃত্ব বদল হতে চলেছে।

ইত্তেফাক/ইআ