বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ট্রেন গেল এক পথে আর ক্রসিংয়ের গেট লাগানো হলো অন্য পথের!

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০২:৫৩

গেটকিপারের অসাবধানতায় রেলক্রসিংয়ে অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল রিকশা ও অটোরিকশার যাত্রীসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ। গত রবিবার বেলা সাড়ে ৩টায় শহরের ব্যস্ততম বিডিআর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঐ দিন গেটকিপার এক রেলক্রসিংয়ের গেট আটকে দিয়েছেন, আর দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেন যায় অন্য রেলপথে। এ ঘটনায় গেটকিপার নাহের হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রেল ক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধকতা ফেলা হয়েছে এক লাইনে আর ট্রেন যাচ্ছে অন্য লাইনে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানা গেছে, শহরের ব্যস্ততম এলাকা বিডিআর গেট সড়কের ওপর দিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী দুটি এবং লালমনিরহাট-মোগলহাট রুটসহ তিনটি রেললাইন বয়ে গেছে। গত রবিবার বেলা ৩টার দিকে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেনটি লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে বুড়িমারীর অভিমুখে যেতে থাকে। এ সময় শহরের বিডিআর গেটে রেলক্রসিংয়ের বার যে লাইনে ট্রেন যাচ্ছে সেই লাইনে না ফেলে অসাবধানতায় গেটকিপার অপর একটি লাইনে বারটি ফেলে রাখেন। মুহূর্তে অপর লাইনে ট্রেন চলে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় রিকশা ও অটোরিকশার যাত্রীসহ অর্ধশত পথচারী। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি দেখে টনক নড়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

গতকাল দুপুরে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় ম্যানেজার শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গেটকিপার নাহের হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনা তদন্তের জন্য রেলওয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ছহির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সময়মতো রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় গতকাল সোমবার অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ফুলবাড়ী-রংপুর সড়কে চলাচলকারী যানবাহনসহ পথচারীরা। রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করার ঘটনার প্রতিবাদ করায় রেলের খালাসিদের সঙ্গে স্থানীয় যুবকের হাতাহাতির ঘটনায় ঘণ্টাব্যাপী রেলপথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার বেলা ১০টা ৫২ মিনিটে ফুলবাড়ী-রংপুর সড়কের ব্যস্ততম রেলঘুমটি এলাকায়।

এদিকে স্থানীয়দের রেলপথ অবরোধের কারণে চিলাহাটি-পঞ্চগড়-খুলনা-রাজশাহী-ঢাকা পথে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে থানার পুলিশ ও জিআরপি পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রেল চলাচলা স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১০টা ৫২ মিনিটে ফুলবাড়ী স্টেশনে প্রবেশ করার জন্য আউটারে চলে আসে। কিন্তু ঐ সময় দায়িত্বরত গেটম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পান দোকানি রফিকুল ইসলাম ছুটে গিয়ে ব্যারিকেডটি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলে ট্রেনটি স্টেশনে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী বাদশা মিয়া, রুবেল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বলেন, গেটম্যান মামুন প্রায় সময় দোকানে আড্ডা দেওয়াসহ ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে গেট খোলা অবস্থায় ট্রেন পার হয়ে যায়। ইতিপূর্বে গেটম্যানের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঐ গেটে একাধিকবার দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

দায়িত্বরত ঐ গেটম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি নাশতা করতে পাশের একটি হোটেলে গিয়েছিলাম। আসতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় রূপসা এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি আউটারে চলে আসায় তাড়াহুড়া করে পান দোকানি রফিকুলসহ দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ১০টা ৫২ মিনিটে রূপসা এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের সঙ্গে ক্রসিং হওয়ার কথা ছিল, তার আগে গেটম্যানকে অবগত করা হয়। কিন্তু সড়কে যানজট থাকায় গেটের ব্যারিকেডটি নামাতে দেরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ