শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হলে না থেকেও গুনতে হচ্ছে হল ফি 

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১৫:২৬

ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন। দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণ করতে এসে জানতে পারেন উত্তর ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীদের তালিকায় নাম রয়েছে তার। যার জন্য তাকে গুনতে হবে অতিরিক্ত আরও ৬ হাজার টাকা। অথচ কোনোদিনই হলে থাকেননি এই শিক্ষার্থী।  

আল-আমিনের মতো অন্তত আরও অর্ধশত শিক্ষার্থীকে হলে না থেকেও এবার হল ফি দিতে হচ্ছে। ফরম পূরণের সময় গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পায়নি এসব শিক্ষার্থী। ফি পরিশোধ না করলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, করোনার সময় দ্রুত টিকা নেওয়ার জন্য ঢাকা কলেজের কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসের ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদন করেছিলেন। মূলত তাদের নামে এই হল ফি এসেছে। তাদেরই একজন ২০১৯-২০ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম। যদিও একদিনের জন্যেও হলে থাকা হয়নি তার। তবে পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে এসে দেখেন অতিরিক্ত হল ফি এসেছে ৩ হাজার টাকা। বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানকে জানালে তিনি অধ্যক্ষ বরাবর দরখাস্ত করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশসহ অধ্যক্ষ বরাবর দরখাস্ত করেন। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ স্যারের পিয়নের মাধ্যমে দরখাস্তটি পাঠানোর পর আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। পরে অবশ্য বাধ্য হয়েই আমি ও আমার ১০-১২ জন বন্ধু তিন হাজার টাকা করে হল ফি পরিশোধ করেছি।

কিন্তু আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জিহাদুল হকের গল্পটা অন্য রকম। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী হলের নাম ব্যবহার করে টিকার জন্য আবেদন করলেও আমি সেটা করিনি। আমি আমার গ্রাম থেকে এনআইডি কার্ড দিয়ে টিকার জন্য আবেদন করি ও সেখান থেকে আমি টিকা গ্রহণ করি। কিন্তু তারপরও উত্তর ছাত্রাবাসের নামে আমার হল কার্ড হয়ে যায় এবং হল ফি চলে আসে। এটা কীভাবে হলো ভুক্তভোগী তা জানেন না। বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বললে তিনি এটি হল প্রভোস্টের সমস্যা বলে জানান। 

এ বিষয়ে উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুল করিম ইত্তেফাককে বলেন, কোভিড চলাকালীন অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীর দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য হলের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। ওই শিক্ষার্থীদেরই হল ফি এসেছে। এই ফর্মগুলো আমরা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছি। তাই তাদের হল ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হল প্রভোস্ট বলেন,  হলে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের নাম ব্যবহার না করে ডিপার্টমেন্টের অন্য শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করেছে। ওই শিক্ষার্থীরা ছাত্র নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে প্রতিবছর এমন সমস্যা হচ্ছে বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম মঈনুল হোসেন বলেন, বিষয়টি হলের প্রভোস্টরা দেখছেন। কোন শিক্ষার্থীরা হলে থাকেন আর কারা থাকেন না এটা তাদের কাছেই তথ্য রয়েছে। তাই হল প্রভোস্টরা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানান অধ্যক্ষ।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দিল ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতি 

ঢাকা কলেজে ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রাবাস, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা 

ঢাকা কলেজে ফের ক্যাফেটেরিয়া চালু, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস