শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাওরানবাজারে শিক্ষার্থীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার, ছিনতাইকারী গ্রেফতার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৬

অবশেষে সেই ছিনতাইকারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার হয়েছে। গত ২১ জুলাই রাজধানীর কাওরানবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী পারিশা আক্তারের মোবাইল ফোনটি বাসের জানালা দিয়ে ছিনতাই হয়ে যায়। ওই শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীকে ধাওয়া দিয়ে ধরতে পারেননি। ওই সময় আরেক বাসের যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরে ফেলে। তাকে ধরে কিল ঘুষি দিতে থাকলেও কেউ সহায়তা করতে এগিয়ে আসেনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, থিসিসের কাজে ২১ জুলাই সকালে সদরঘাট থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানায় গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু শাহরিয়ার আলম। সারা দিন সেখানে কাজ করে তানজিল পরিবহনের একটি বাসে করে ফিরে যাচ্ছিলেন সদরঘাটে। সন্ধ্যার দিকে বাসটি কারওয়ান বাজার এসে জ্যামে আটকে পড়ে। তখন বাসের জানালার পাশে বসে মোবাইলে বোনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ওই ছাত্রী। হঠাৎ এক ছিনতাইকারী বাইরে থেকে  মোবাইলটি টান দিয়ে দৌড় দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বাস থেকে নেমে তিনি ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করেন কিন্তু ধরতে পারেননি। মুঠোফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে কারওয়ান বাজারের মূল সড়কের পাশে ইত্তেফাকের গলিতে এসে কাঁদছিলেন। ঠিক তখনই দুই ছিনতাইকারী আরেকজনের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালাচ্ছিল। পেছন থেকে একজন বলছিলেন, ধরেন ধরেন। চিৎকার শুনে তিনি এক ছিনতাইকারীকে জাপটে ধরেন।

নিজের ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ছিনতাইকারীকে ধরতে না পারলেও আরেক ছিনতাইকারীকে ধরে তিনি কিল-ঘুসি দিতে থাকেন। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে জড়ো হন অনেক মানুষ। ছিনতাইকারীর পকেট তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন পান। তবে সেটি তার নয়। পরে ওই ছিনতাইকারীকে দিয়ে ফোন করে তার সহযোগীকে ডেকে আনেন। এরপর দুই ছিনতাইকারীকে তেজগাঁও থানা-পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। দুই ছিনতাইকারী ধরিয়ে দেওয়ার পর তেজগাঁও থানায় একটি জিডি করি। 

 

ইত্তেফাক/ইআ