সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘শিল্প খাতে মারাত্মক বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৫:০০

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের নিট সেক্টরসহ সব খাত চাপে পড়বে বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাক্চারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, এমপি এ প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব বাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকে, ঠিক তখন আমাদের দেশে জ্বালানির তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আমাদের হতবাক করেছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে নিঃসন্দেহে চাপে পড়বে রপ্তানিমুখী শিল্প খাত। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানি খাত নিট সেক্টরসহ দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে মারাত্মক বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা করার সিদ্ধান্তের কারণে এর প্রভাব সরাসরি বিদ্যুৎ, পরিবহন তথা অন্যান্য উপখাতগুলোতে পড়বে। যা প্রকারান্তরের নিট, পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে হ্রাস করে দেবে। ফলে দেশের নিট পোশাকশিল্প উদ্যোক্তাদের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে খাতওয়ারি বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে বিকেএমইএ মনে করছে। 

ছবি: আব্দুল গনি

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় এক ধরনের দীর্ঘ শ্লথ প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে, যা থেকে আমরা এখনো বেরোতে পারিনি। তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিশ্ব মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে সারা বিশ্বের অর্থনীতি। ফলে পুরো বিশ্বের কাঁচামাল সরবরাহ চেইনে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে; যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি নিট সেক্টরসহ দেশের পোশাকশিল্পের ওপর পড়েছে। এমনিতেই বিগত কিছু সময় ধরে আমরা কারখানাতে গ্যাসের প্রবাহ ঠিকমতো পাচ্ছি না; যা আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। তার ওপর ২০২২-২৩ সালের অনুমোদিত বাজেটে উৎস কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ করায় শিল্প উদ্যোক্তারা মারাত্মকভাবে চাপে পড়ে গেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ এড়াতে বিকল্প পরিকল্পনার অনুরোধ বিকেএমইএর

এত কিছুর পরেও গত বছর একদফা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং মাত্র কিছুদিন আগেই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার এবং উক্ত সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের ব্যাপক চাপে ফেলবে জেনেও দেশের স্বার্থে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এটিকে স্বাগত জানানো হয়েছিল।

কিন্তু এখন জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপরই একটি মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে, ফলে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানতম রপ্তানি খাত নিট শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশকে ধরে রাখতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে যে অর্থনৈতিক বোঝা এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের ওপর পড়েছে, তা নিরসনকল্পে জরুরিভাবে আপতকালীন সময়ের জন্য নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি করে, তা সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

ইত্তেফাক/এএএম