সাতক্ষীরা শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রাণসায়ের খালটি সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গত দুই বছর আগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রাণসায়ের খালে সবুজের সমারোহ। খালটির বুক ভরে গেছে কচুরিপানায়। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণ হলে পানি নিষ্কাশন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুমে কয়েক মাস ধরে শহরের তিন ভাগের দুই ভাগ থাকে জলমগ্ন। সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন পৌরবাসি। বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার পুরোনো সাতক্ষীরা, বদ্দিপুর কলোনী রসুলপুর, পলাশপোল, কামালনগর, ইটাগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
এবার ভরা বর্ষায় বৃষ্টির দেখা না হলেও প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ভারী বর্ষণ হতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে দুর্ভোগের আর শেষ থাকবে না। সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১-এর অধীনে খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়)-এর আওতায় প্রাণসায়ের খাল খনন করা হয়।
নাগরিক কমিটির নেতা অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, সবার আগে দরকার জনসচেতনতা। খালটি খননপূর্বক সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু কাজ হয়নি। খালটির বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। শহরের পাকাপুলের মোড় থেকে সুলতানপুর বড়বাজার ব্রিজ পর্যন্ত এবং টাউনবাজার ব্রিজ থেকে স্টেডিয়াম ব্রিজ পর্যন্ত খালটি কচুরিপনায় ভরে গেছে। ভারী বর্ষণ হলে এই খাল দিয়ে শহরের পানি প্রবাহিত হতে পারবে না। ফলে দেখা দিবে জলাবদ্ধতা।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, প্রাণসায়ের খাল ভরাট ও দখল হওয়ার পর নতুন করে খনন করা হয়। কিন্তু যেভাবে খনন করা হয়েছে, তাতে প্রাণসায়ের প্রাণ ফিরে পাওয়া তো দূরের কথা, শুধু সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, ক্লিন সাতক্ষীরা-গ্রিন সাতক্ষীরা গড়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তারই জের ধরে প্রথমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের আওতায় প্রাণসায়ের খাল খনন করা হয়। কিন্তু খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কোনো কাজ হয়নি।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, প্রাণসায়ের খাল খনন ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা হয়নি। এজন্য ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল। খালপাড়ের মানুষ মামলা করায় ও এক্সকাভেটর মেশিন চলাচলের জন্য জায়গা বের করতে দেরি হওয়ায় কাজ করতে দেরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিশেষ করে শহর অংশে নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, পরে আবার খাল আরো খনন করতে হবে। না হলে বিল দেওয়া হবে না। কিন্তু তারপরের খবর আর জানা যায়নি।
