শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা চান রেল কর্মকর্তারা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ০৭:০৩

টিকিট কালোবাজারিসহ অনিয়ম বন্ধ ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা চায় রেলওয়ের কর্মকর্তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রনির করা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত চার সদস্যের কমিটি এই সুপারিশ করেছে। 

সুপারিশে বলা হয়েছে, পূর্বের ন্যায় রেল স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেয়াল ক্ষমতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি টিকেট কালোবাজারি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার লক্ষ্যে স্টেশনসংলগ্ন প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাবের সহায়তাসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা দরকার। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল রবিবার এই সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। রেলওয়ে মহাপরিচালকের পাঠানো ঐ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, রেলওয়ে কতৃ‌র্পক্ষ বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন হাইকোর্টে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার আদালত এই বিষয়ে আদেশ দেবে।

টিকিট কালোবাজারিসহ রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে ছয় দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। তার এই আন্দোলন কর্মসূচি দেশ জুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীকালে ঐ শিক্ষার্থীর দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেন রেলওয়ে মহাপরিচালক। কমিটি কয়েক দফা বৈঠক শেষে চার দফা সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন দেয়।

টাকা রিফান্ডকেই হয়রানি হিসেবে দেখছেন যাত্রীরা:সুপারিশের মধ্যে রয়েছে :একজন যাত্রীর ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত হলে অনলাইন পদ্ধতিতে টাকা কর্তন করতে হবে। সেক্ষেত্রে রিফান্ডের কোনো প্রশ্নই থাকবে না। কেননা যাত্রীরা এই কর্তনকৃত টাকার রিফান্ডকেই হয়রানি হিসেবে বিবেচনা করছে। সহজ ডটকমের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম আরো যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্যে বুয়েট/ঢাবির কম্পিউটার সায়েন্স অথবা প্রাসঙ্গিক বিভাগের সহায়তা/সার্ভিস গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ট্রেনের টিকিট চেকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকতা‌র্ ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবনিয়োগ/পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত সিই(ট্র্যাক)(পূর্ব) মো. আরমান হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত চার সদস্যের কমিটি এই সুপারিশ করেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, রেলওয়েতে ট্রেনের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত ২১৮টি। বর্তমানে এই ট্রেনের সংখ্যা ৩৬৬টি। এর মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন ১০৪টি, আন্তঃদেশীয় আটটি, লোকাল/মেইল/এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা ২৫৪টি। দীর্ঘদিন রেলওয়েতে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল, ফলে টিকিট চেকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ পদ খালি থাকায় টিকিট চেকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

হাইকোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনে রেলকতৃ‌র্পক্ষ বলেছে, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও ছাদে যাত্রী বহন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ