সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেয়েকে ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় মাকেও ধর্ষণ, গ্রেফতার ২

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ০৯:১৩

১৪ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহ ধরে ১৫ বছরের একটি মেয়েকে সিলেটের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় মাকেও ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগরে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিন মাস থেকে ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালবাজার এলাকার বগুড়া হোটেলে কাজ করতেন নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা ঐ নারী। কর্মস্থলের পাশে ১৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বগুড়া হোটেলের মালিক বুলবুল এবং পাশের সুপ্রীম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মতিন দুই জন একে অপরের বন্ধু। সে সুবাদে মতিন প্রায় সময় ঐ নারীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। একপর্যায়ে মতিন ফুঁসলিয়ে ঐ নারীর ১৫ বছরের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

১৪ জুন সন্ধ্যায় মতিন কৌশলে নারীর বাসায় যায় এবং জোরপূর্বক তার মেয়েকে (১৫) ধর্ষণ করে। বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে ঐ মেয়েকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। মেয়েটি ভয়ে বিষয়টি কাউকে না জানালে ২০ জুলাই মতিন ঐ মেয়েকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সিলেট শহরের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জোরপূর্বক দুই-তিন বার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। দুই-তিন দিন পর মেয়েটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি তার মাকে খুলে বলে। মেয়ের মা বিষয়টি তার হোটেল মালিক বুলবুলকে জানালে বুলবুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

গত ১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে মতিন ও বুলবুল দুই বন্ধু একসঙ্গে ঐ নারীর বাসায় যায়। বাসায় গিয়ে মতিন মেয়েকে এবং বুলবুল মেয়ের মাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তাদের বাসা থেকে বের করে দেয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে ঐ নারী ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে নির্যাতিত মা ও মেয়েকে পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ৪ আগস্ট ওসমানীনগর থানায় দুই জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরর পর ঐ দিনই ধর্ষণের অভিযোগে দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মতিন খাঁন (৩৬) উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত সিকান্দার খাঁনের পুত্র এবং বুলবুল ফকির (৩২) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত বাবুল ফকিরের পুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুবিনয় বৈদ্য বলেন, মামলা দায়েরের পর উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর