শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সেচ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের গুরুত্ব অপরিসীম: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১১:৪৯

কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেচ কমপ্লেক্স, বিএডিসি, কুমিল্লায় ‘ফলদ বাগান, সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েল ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রদর্শনী প্লট’-এর শুভ উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। 

রবিবার (৭ আগস্ট) উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী সেচ কমপ্লেক্সে কাজু বাদামের চারা রোপণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু কর্নারে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, বিএডিসি’র চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) এ এফ এম হায়াতুল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কুমিল্লা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা সেচ কাজে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে থাকি। আমাদের দেশে শীতকালে যখন বোরো ধান লাগানো হয় তখন সেচ কাজে বেশি পানি প্রয়োজন হয়। কারণ বোরো ধান পুরোটাই সেচ নির্ভর ফসল। তা-ছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও বৃষ্টিপাত কম হলে সেচের প্রয়োজন হয়। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারে সেচ খরচ কম হয়। সেজন্য যদি আমরা নদী বা খালের পানিকে সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচকাজে ব্যবহার করতে পারতাম, তবে অল্প সেচ খরচে অধিক ফসল ফলাতে পারতাম।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের উপায় হচ্ছে খাল ও নদী খনন। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গেছে, অনেক খাল দীর্ঘ দিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খাল এবং নদীগুলো পুনরায় খনন করে দিলে দুই দিক থেকে আমাদের কৃষকরা লাভবান হতে পারবে। এই খাল খননের ফলে এক দিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পতিত জলাবদ্ধ জমিগুলো নতুন করে চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, অপর দিকে শুকনো মৌসুমে খালের জমাটবদ্ধ পানি সেচ কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। 

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএডিসি’র কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খাল ইতোমধ্যে খনন করা হয়েছে। যেটি কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অঞ্চলে আরও প্রায় ১০০০ কিলোমিটার খাল খননের চাহিদা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সেই লক্ষ্যে এ অঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে আরও বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা (ক্ষুদ্র সেচ) সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ‘দেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী রাখা যাবে না’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেচ কমপ্লেক্সের পতিত জমিতে প্লট আকারে ফলদ বাগান এবং সবজি চাষ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডাগওয়েল স্থাপন এবং পানি সাশ্রয়ী আধুনিক স্প্রিংকলার ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতির প্রয়োগের মাধ্যমে এসব ফলদ বাগান এবং সবজি চাষের প্লটে সেচ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

এসব বাগানে আম, ভিয়েতনামি কাঁঠাল, ডুরিয়ান, ডুমুর, করমচা, বিলিম্বি, সফেদা, শরিফা, পেয়ারা, কমলা, বড়ই, বেল, আমড়া, আমলকি, হরিতকি, লেবু, ড্রাগন, লটকন, তেঁতুল এবং মাল্টার বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৮০টি ফলজ গাছ রয়েছে। 

ড্রিপ সেচ পদ্ধতি সম্বন্ধে প্রকল্প পরিচালক বলেন, আগামীর মিঠা পানির সংকট মোকাবিলায় এ সেচ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদ্ধতি, যেখানে বদ্ধ প্লাস্টিক পাইপের মাধ্যমে সুষমভাবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণে গাছের শিকড়ে সরাসরি পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে ৩০-৭০ শতাংশ পানি ও প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। তবে এখানে সৌরশক্তি চালিত ডাগওয়েলের মাধ্যমে এ পানি সরবরাহ করার ফলে শতভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে।

ইত্তেফাক/মাহি