মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাদকে সয়লাব চবি ক্যাম্পাস, দেখার কেউ নেই

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ০০:২০

বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিলে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূর্ণতা পায় না অনেকের। মাদকের করাল গ্রাসে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় কিছু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। দিন দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েছে মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। সন্ধ্যা নামতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে বসে মদ, গাঁজা আর ইয়াবার আসর। রাত যতই বাড়তে থাকে ততই বাড়ে মাদকাসক্তদের আনাগোনা। সম্প্রতি এই সংখ্যাটা এতোই বেড়েছে যে, মাদক সেবন করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মোড় ও হলে মাতলামি করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এসব দেখেও চোখ বুজে আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • যাদের মদদে আসে মাদক

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসায়ীদের আছে বিশাল সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে আরো সক্রিয় হয়েছে এ সিন্ডিকেট। নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল এবং সিএনজির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশ করছে মাদক। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যমতে এসবের মূলে হাত আছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের নেতাদের হাত। এসব নেতাদের পরোক্ষ মদদে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গার্ডদের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে ঢুকে মাদক।

  • যেখানে বসে আসর

এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা যেমন, বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন, আইন অনুষদ ক্যান্টিন, এফ রহমান হলের বিপরীতে ট্যাঙ্কির পাহাড়, টেনিস কোর্ট, স্লুইস গেট, চবি কলেজের পেছনের অংশ, জাদুঘরের সামনে, ফরেস্ট্রি হ্যালিপ্যাড, ফরেস্ট্রি গ্যারেজের পেছনে, কলা অনুষদ ঝুপড়ি, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পশ্চিম পাড়, শহিদ মিনার চত্বর, মুক্তমঞ্চ, চাকসুর পেছন, উস-প্রাইমারি স্কুল, হিল সাইড স্কুলের গলির ভেতর, শাহজালাল ও শাহ আমানত হলের সামনের বেশ কয়েকটি কটেজ, লেডিস হলের ঝুপড়ির পেছনের অংশে আড্ডার মতো করে বসে থেকে মাদকসেবন করা ছিল মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখন এসব জায়গা ছাড়াও মাদকসেবন চলছে বিভিন্ন আবাসিক হলে। কোনো বাঁধা ছাড়াই নিজ কক্ষে এখন অনেক ছাত্র মদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করেন। হল আঙিনায় দেখা যায় দেশি-বিদেশি মদের বোতল। সন্ধ্যা হলেই গাঁজার উত্কট গন্ধে নষ্ট হয় হলের পড়াশোনার পরিবেশ।

  • সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, মাদকের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে, তারা যারাই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহিউদ্দিন সুমন বলেন, সম্প্রতি মাদকবিরোধী কোনো অভিযান হয়নি? তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি চাইলে এসব বিষয়ে তাদের আমরা সহযোগিতা করতে পারি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। হল প্রভোস্টদের বলে দিয়েছি এসব দিকে খেয়াল রাখতে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে হলে হলে অভিযান চালাব আমরা।

ইত্তেফাক/ইআ