শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তাজিয়ায় বোমা: বিচারের প্রথম ধাপ পেরোতে ৭ বছর পার

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৯

সাত বছর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ জেএমবি বোমা হামলা করেছিলো পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে মহররমের তাজিয়া মিছিলে। ওই হামলার ঘটনায় মামলা হয় চকবাজার থানায়। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার হামলার মূল হোতারা ছিলো বিচারের বাইরে। 

এ কারণে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক তার রায়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনাও করেন। এই মামলার বিচারের প্রথম ধাপ পেরোতে লেগেছে সাত বছর। চলতি বছরের ১৫ মার্চ রায় দেয় ঢাকার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আটজন আসামির একজনকে ১০ বছর এবং আরেকজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বাকিদের দেওয়া হয়েছে খালাস। ইতিমধ্যে দণ্ডিতরা হাইকোর্টে আপিল করেছেন। ওই আপিল এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। তবে মামলার দুই আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার প্রক্রিয়া চলছে। 

তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা
হোসেনি দালানের তাজিয়া মিছিলে জঙ্গি হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ মারাত্মক ভুল করেছেন। মামলাটির তদন্তের ক্ষেত্রে হামলাকারীকে শনাক্ত না করে তিনি দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছেন। ফলে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীরা আইনের বাইরে রয়ে গেছেন। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের দেওয়া মামলাটির রায়ের পর্যবেক্ষণে এই মতামত উঠে এসেছে। গত ১৫ মার্চ দেওয়া রায়ে মামলার ১০ আসামির মধ্যে ২ জনকে সাজা ও ৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়। আর দুজন শিশু হওয়ায় শিশু আদালতে তাদের বিচার হচ্ছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুরনো ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলা হয়। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তে মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনি চরমভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। ফলে হোসেনি দালান ইমাম বাড়ার গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, আসামি কবীর হোসেন ও আরমানে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ এবং শাহজালাল মিয়া জড়িত মর্মে কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি। কোনো সাক্ষী এ চার আসামির নাম উল্লেখ করেননি। তাদের কাছ থেকে আলামত উদ্ধারের কোনো অভিযোগ নেই। তারা ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য উপস্থাপনে প্রসিকিউশন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই আসামিরা কিভাবে হোসেনি দালানে বোমা হামলায় জড়িত তার ব্যাখা তদন্তকারী পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি।

আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আসামির সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই অযথা তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিউদ্দিন শেখ কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই আসামি চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ এবং শাহজালাল মিয়াকেএই চারজনকে এ মামলায় বিচারের জন্য সোপর্দ করেন। কাজেই তারা হামলায় অংশগ্রহণ করেছে বা সহায়তা করার অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

বিচারক বলেন, পূর্ণ তদন্ত না করে মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা আলবানী ও নোমান এবং হোসেনি দালানে হামলাকারী হিরনকে মামলায় আসামি হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করেননি। ফলে হোসেনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/কেকে