ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক। সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন। তবে মারধরের তাৎক্ষণিকতায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)। সংগঠনটির সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ আল হাসান শামীম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে লাগাতার কর্মবিরতি সহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবে চিকিৎসকরা। ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আজ বুধবার বেলা ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করবে ইচিপ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন আমি দেখি যে, দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। একপর্যায়ে তিন জন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি।
আমি বললাম, ‘আমি বসে আছি’। তখন তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। তখন আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে? তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরও দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে।
তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, ‘আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন।’ এরপর তারা সেখান থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য তৎপর হয়। আমি চলে যাওয়ার সময় যে পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিল এবং জোর করে চলে যেতে জোর করছিল। ঠিক এই সময় কেউ একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পর দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। একারণে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে যাওয়ার পথে যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত। আমাকে ৮ থেকে ১০ জনের মতো মারধর করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিনতাই ছিল নাকি অন্যকিছু ছিল জানি না।
এদিকে বিবৃতিতে ইচিপ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কতিপয় ছাত্র কর্তৃক গত ০৮/০৮/২০২২ইং তারিখ, রাত ৯ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিনা উসকানিতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল এর ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন এর উপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
ইচিপের সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, আমরা ঢামেক পরিচালক, উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ হিসেবে আমরা মৌখিকভাবে প্রক্টরকে জানিয়েছি। থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি সহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।
জিলানী জানান, কাবীর নামে জহুরুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে তারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করছেন। ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সে পোস্টের সূত্রে এ সন্দেহ করা হচ্ছে।
এদিকে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
