রাজনীতিতে অনীহা ছিল, এখন তিনি উপরাষ্ট্রপতি 

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ০০:০২

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন জগদীপ ধনকড়। বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন বিরোধী প্রার্থী মার্গারেট আলভাকে। উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য তার প্রয়োজন ছিল ৩৭১টি ভোট। তিনি পেয়েছেন ৫২৮টি ভোট। যা মোট ভোটের ৭০ শতাংশ। ভোটের নিরিখে বিদায়ি উপরাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কাইয়া নাইডুকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি। 

কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গভর্নর। সেই সময়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রায়ই প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অনেকবারই দাবি করে যে, তিনি রাজ্য সরকারের কাজে বাধা দিচ্ছেন। তিনি গভর্নর হিসেবে নয় বরং কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির একজন হয়ে আচরণ করছেন। অথচ রাজনীতিতেই নাকি আসার ইচ্ছা ছিল না ধনকড়ের।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া ধনকড় অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে একের পর এক সাফল্যের পর এবার উপরাষ্ট্রপতি হয়েছেন তিনি। উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে জগদীপ ধনকরের রাজনৈতিক জীবন কেমন ছিল? আইনজীবী থেকে কীভাবে হলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব? ১৯৫১ সালের ১৮ মে রাজস্থানের ঝুনঝুনুর এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম ধনকড়ের। চিতরগড়ের সৈনিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন ধনকড়। এর পর রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৭৯ সালে সুদেশ ধনকড়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ঐ বছরই প্রথমে আইনজীবী হিসেবে পেশাদার জীবন শুরু করেছিলেন ভারতের নতুন উপরাষ্ট্রপতি। যোগ দিয়েছিলেন রাজস্থানের বার কাউন্সিলে। পরে শীর্ষ আইনজীবী পদে তার উত্তরণ ঘটেছিল। রাজস্থান হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন জগদীপ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবেও দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তিনি।

আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে করতেই রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন ধনকড়। ১৯৮৯ সালে রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। রাজস্থানের ঝুনঝুন থেকে জনতা দলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জিতে প্রথম এমপি হন তিনি। ১৯৯০ সালে প্রথমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাজস্থান বিধানসভার সদস্য ছিলেন ধনকড়। কিষানগড় আসনের বিধায়ক ছিলেন তিনি।

তবে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে তার ‘অনিচ্ছা’র কথা জানিয়েছিলেন ধনকড়। অথচ সেই তিনিই এমপি, বিধায়ক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গর্ভনর হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।

রাজনৈতিক মঞ্চে ধনকড়ের মেন্টর ছিলেন ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী দেবী লাল। ১৯৮৯ সালে বিরোধীদের প্রার্থী হিসেবে ধনকড়কে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর পদে বসার পর থেকেই খবরের শিরোনামে উঠে আসেন ধনকড়। মমতা সরকারের সঙ্গে নানা বিষয়ে তার সংঘাত ঘিরে প্রায়শই সরগরম থাকত রাজনীতির ময়দান। ‘বিজেপির এজেন্ট’ হয়ে গভর্নর কাজ করছেন বলে সরব হতে দেখা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দলকে। তবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ধনকড় সমর্থন না জানালেও ভোটদানে বিরত থেকে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ১১ আগস্ট তিনি শপথ নেবেন

ইত্তেফাক/ইআ