মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

'জাওয়াহিরির হত্যাকাণ্ড দোহা চুক্তির শূন্যতাকে পুনর্ব্যক্ত করে'

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৯

উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার প্রায় এক বছর পরে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান দোহা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মধ্যে কাবুলে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির হত্যাকাণ্ড এটা স্পষ্ট করে দেয় যে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি চুক্তি করেছিল তা শেষ হয়ে গেছে। 

দুঃখজনকভাবে, দোহা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের চেয়েও বেশি আফগানিস্তানের জনগণ যাদের আবারও পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি ৩১ জুলাই কাবুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয়। জাওয়াহিরি ওসামা বিন লাদেনের একজন বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ৯/১১ হামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি সহ আল-কায়েদার বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠন তৈরি করেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২৫ জুলাই সিআইএকে সুযোগ বুঝে হামলা করার জন্য অনুমোদন দেন। ৩১ জুলাই সকালে সিআইএ দ্বারা উড্ডয়িত একটি ড্রোন জাওয়াহিরিকে তার বারান্দায় দেখতে পায়। তৎক্ষণাৎ সংস্থার কর্মীরা ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করে। এর ফলে দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ শিকারের সমাপ্তি ঘটে। 

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক আগস্ট  ঘোষণায় জানান, জাওয়াহিরি আমেরিকান ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন।  

পরের দিন, সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, কাবুলে আল-কায়েদার নেতাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। যা করে তালেবান চরমভাবে দোহা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বিশ্বকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তারা আফগান ভূখণ্ড সন্ত্রাসীদের দ্বারা ব্যবহৃত হতে দেবে না।   

তালেবানরা আফগান জনগণের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বীকৃতি ও স্বাভাবিককরণের জন্য তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগান জনগণকে শক্তিশালীভাবে মানবিক সহায়তা করবে। তাদের মানবাধিকার বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের সুরক্ষার পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। 

ইত্তেফাক/এসআর