পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে হামলা ভাঙচুর এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্মমভাবে হত্যার বিচার দাবি করেছে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্ছনা ও সাভারের শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বুধবার (১০ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় আগামী ১৯ আগস্ট জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সভাপতি শ্রী সুকুমার চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শ্রী প্রবীর কুমার সেন সাবেক সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে, ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস কে সিকদার, সদস্য সচিব রথীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য, গুলশান বনানী পূজা উদযাপন ফাউন্ডেশনের সভাপতি পান্না লাল দত্ত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোজ সেনগুপ্ত প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাঙালির প্রাণের উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। কিন্তু গত বছর রাজধানীর বহুল জনপ্রিয় ধানমন্ডি পূজামণ্ডপের মাঠ, সম্প্রতি গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপের মাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যা পুরো সনাতনী সমাজকে বেদনাহত করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই মাঠ পূজার জন্য উন্মুক্ত করে করে বন্ধকারীদের শাস্তির আওতায় আনবেন বলে বিশ্বাস করি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলা, হিন্দুদের জমি দখল, দোকানপাট, ঘরবাড়ি লুটপাটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। হিন্দু সম্প্রদায় নিজেদের অসহায় বোধ করছে। এই ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান তারা।
তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশব্যাপী জন্মাষ্টমী উৎসব পালন করা হবে। এই উপলক্ষে পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় বস্ত্র-খাবার বিতরণ, চিকিৎসা ও রক্তদানসহ ৫ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
