মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যে কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছিলো কামারপাড়ার ভাঙারির দোকানে 

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ২২:৩৯

মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল সংখ্যক  হ্যান্ড সেনিটাইজের বডি স্প্রে টাইপের বোতলের মুখ বিচ্ছিন্ন করারর ফলেই তুরাগের কামারপাড়ায় ভাঙারির দোকানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ আগস্ট এই বিস্ফোরণের ঘটনার পর দগ্ধ ৮ জনের মধ্যে ৭ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভাঙারির দোকানের মালিকের ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। 

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মোর্শেদুল আলম বলেন, গ্যারেজ ও ভাঙারির দোকানের মালিক নিজেই ভুক্তভোগী হয়েছেন। গ্যারেজে দাহ্য উপাদান কীভাবে গেছে, সেটি এখন অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সেখানে ঘটনা কেন ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে, কারা দায়ী এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত শনিবার এ বিস্ফোরণে দগ্ধ আটজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওই দিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নূর হোসেন (৬০), গাজী মাজহারুল ইসলাম (৪৫) ও আলমগীর হোসেন (২৩) মারা যান। পরদিন রবিবার রাতে মারা যান মিজানুর রহমান (৩৫) নামের একজন। সোমবার রাতে মারা যান মাসুম আলী (৩৫) ও আল আমিন (৩০)। মঙ্গলবার শফিকুল ইসলাম (৩২) মারা যান। শাহীন নামে এক তরুণ চিকিৎসাধীন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাজী মাজহারুল ইসলাম ভাঙারির দোকানের মালিক। পাশের রিকশা গ্যারেজটিও তার। ভাঙারির দোকানে বিপুল সংখ্যক ‘জার্ম কিল স্প্রে’ নামের হ্যান্ড সেনিটাইজার জমা করা ছিল।  করোনাকালীন এই হ্যান্ড সেনিটাইজারের উদ্ভাবক ভারতের ড. রাজেষ। তার তৈরি করা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের স্প্রে সিস্টেম একটু ব্যতিক্রম। কাঁচ বা প্লাস্টিকের বোতলে লিকুইড বা তরল জাতীয় হ্যান্ড সেনিটাইজার নয়। এটি স্প্রে জাতীয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বডি স্প্রেয়ের মত টিনের বোতলগুলো ভাঙারির দোকানে জমা করা হয়েছিল। একটি করে টিনের বোতলের মুখ খুলে ফেলছিল ভাঙারির দোকানের শ্রমিকরা। এতে স্প্রে জাতীয় হ্যান্ড সেনিটাইজার দোকানের ভিতরে ওপরের অংশে জমা হতে থাকে। জমে থাকা গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনো কারণে বিস্ফোরিত হয়।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, ‘জার্ম কিল স্প্রে’ ব্র্যান্ডের  হ্যান্ড সেনিটাইজার বাংলাদেশে লাফজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আমদানিকারক। প্রতিষ্ঠানটির অফিস বনানীতে। তবে স্প্রে জাতীয় টিনের কৌটা বা বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে, ওই প্রতিষ্ঠান সেগুলো নিরাপদে ধ্বংস করবে। এগুলো বাইরে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

এ ব্যাপারে উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মোর্শেদুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারো গাফিলতি থাকলে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে, ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া গাজী মাজহারুল ইসলামের মেয়ে বীথি আক্তারের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। বুধবার বীথি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ৪ বছর  মেয়াদি অনার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বীথি আক্তারের পড়াশোনার দায়িত্ব উত্তরা ইউনিভার্সিটি গ্রহণ করেছে। পড়াশোনা চলাকালীন মেয়েটিকে আর্থিকসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ