বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হামলাকারীরা শনাক্ত না হওয়ায় কর্মবিরতিতে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৭:৫৯

ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে শনাক্ত করতে না পারায় লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ আল হাসান শামীম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্র কর্তৃক গত ৮ আগস্ট রাত ৯ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিনা উস্কানিতে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল এর ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনোও পর্যন্ত কোন অপরাধী শনাক্ত না হওয়ায় ও তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারার প্রতিবাদ স্বরূপ পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করবেন।

এর আগে গত ৮ আগস্ট রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর হাতে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন। তবে মারধরের তাৎক্ষণিকতায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)। 

সংগঠনটির সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ আল হাসান শামীম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তখন বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবে চিকিৎসকরা। ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বুধবার বেলা ১১টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে ইচিপ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন আমি দেখি যে, দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। একপর্যায়ে তিন জন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, ‘আমি বসে আছি’। তখন তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। তখন আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে? তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরও দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করে।

তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, ‘আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন।’ এরপর তারা সেখান থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য তৎপর হয়। আমি চলে যাওয়ার সময় যে পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিল এবং জোর করে চলে যেতে জোর করছিল। ঠিক এই সময় কেউ একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পড় দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। একারণে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে যাওয়ার পথে যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত। আমাকে ৮ থেকে ১০ জনের মতো মারধর করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিনতাই ছিল নাকি অন্যকিছু ছিল জানি না।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে দেয়া বিবৃতিতে ইচিপ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর কতিপয় ছাত্র কর্তৃক গত ৮ আগস্ট রাত ৯ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিনা উসকানিতে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল এর ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন এর ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ইচিপের সভাপতি ডা. মো. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, আমরা ঢামেক পরিচালক, উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হিসেবে আমরা মৌখিকভাবে প্রক্টরকে জানিয়েছি। থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।

ইত্তেফাক/এএএম