মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

ডাকাত-ছিনতাইকারীদের হাতে জিম্মি যাত্রীরা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ০৩:০০

টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের যাত্রীরা আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অপরাধী চক্রের মধ্যে রয়েছে আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অপহরনকারী চক্রের সদস্য। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে চলছে ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ। 

চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু আগ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কি. মি. এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অপহরনকারী চক্রের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাতি ও ছিনতাই শেষে অপরাধী চক্রের সদস্যরা নিরীহ যাত্রীদের খুন করে মহাসড়কের পাশে ফেলে যাচ্ছে। আবার আবার ঘটছে ধর্ষণের মত ঘটনা। পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসহ ডাকাত, ছিনতাইকারী এবং অপরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে। জেল থেকে আবার জামিনে এসে একই পেশায় জড়িয়ে পরছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) মির্জাপুর থানা ও গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তারা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারপরও বিভিন্ন সময় নানা ঘটনা ঘটছে। 

গোড়াই হাইওয়ে থানা ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। এই মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে কলকাতা, বেনাপোল, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাপাই, কুড়িগ্রাম, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলার যানবাহন চলাচল করে আসছে। প্রতি দিন শতশত যানবাহনে হাজার হাজার যাত্রী রাতে ও দিনে চলাচল করে আসছে। রাত হলেই এই মহাসড়ক এক ভুতরে পরিবেশ নেমে আসে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের তেমন নিরাপত্তা নেই। 

এই মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও পূর্ব থানা এলাকা, এলেঙ্গা, গোড়াই, কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, বাইপাইল, নবীনগর, কোনাবাড়ি, আশুলিয়া, জয়দেবপুর, সাভার, উত্তরা, মহাখালী ও গাবতলী থেকে অপরাধীরা নানা কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে বাস ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে আসছে। এছাড়া মলম পার্টির খপ্পরে পরে সর্বস্বান্ত হচ্ছে নিরীহ যাত্রীরা। এদের সঙ্গে নতুন করে এখন যোগ হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি। 

বাস যাত্রীদের মধ্যে ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম মিয়া (৪৬), আবু কাওসার রায়হান (৪৫)সহ অন্তত ১৫ জন যাত্রী অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় এই মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ এবং নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে ১৫ কি. মি, এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল বাইপাস, করাতিপাড়া, করটিয়া, নাটিয়াপাড়া, পাকুল্যা, কদিমধল্যা, ইচাইল, চরপাড়া, কুমারজানি, দেওহাটা, কোদালিয়া, গোড়াই, বোর্ডঘর, কালিয়াকের এবং চন্দ্রা এলাকায় অপরাধীদের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু সেতু থানার পূর্ব প্রান্তে বাসে ডাকাতি এবং এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে এই মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার বাওয়ার কুমারজানি নামক স্থানে বাস থেকে ফেলে দিয়ে এক পোশাক শ্রমিক নারীকে হত্যা করে ডাকাত দলের সদস্যরা। ধেরুয়া নামক স্থানে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে মালামাল লুটে নেয় ডাকাত দল। এছাড়া প্রতিনিয়তই ঘটছে অপরাধমূলক ঘটনা।

সম্প্রতি রিপন (২৬) নামে যুবককে গোড়াই থেকে অপহরণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে পালানোর সময় আন্তঃজেলা ডাকাত ও অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে মাইক্রোসবাসহ গ্রেফতার করেছে হাইওয়ে থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী ও ডাকাত দলের তিন সদস্য পালিয়ে যায়। অপহরণকারী দলের সদস্যদের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
  
এ ব্যাপারে গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মোল্লা মো. টুটুল বলেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এই মহাসড়কের যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তারা নিয়মিত টহল দিয়ে থাকেন। তাদের যানবাহন অপ্রতুল এবং জনবল কম রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসছে। বিষয়টির দিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক দেখভাল করেন হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ। থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা করেন। প্রতি রাতে ও দিনের বেলায় থানা পুলিশ মহাসড়কে টহল দিয়ে থাকেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহম্মদ কায়সার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও চেষ্টা চলছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি