বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভয়কে জয় করে টিকা নিচ্ছে শিশুরা

প্রথম টিকা নেয় তৃতীয় শ্রেণির নিধি নন্দিনী কুণ্ডু
টিকাদানে সফলতায় যুক্তরাষ্ট্র অনেক প্রশংসা করেছে: স্বাস্হ্যমন্ত্রী
পাঠদান অব্যাহত রাখতে টিকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ০৮:০০

শিশুরা ভয়কে জয় করে টিকা নিচ্ছে। ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণমূলক এই টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। প্রথম দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৭ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়। এদিন প্রথম টিকা নেয় তৃতীয় শ্রেণির নিধি নন্দিনী কুণ্ডু। লাইনে দাঁড়নো প্রথম দুজন ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নিধি সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিল; কোভিড টিকা নেওয়ার পর সে জানাল, ভয় না পেলেও অল্প একটু ব্যথা তার লেগেছে।

দেশের পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরুর দিনে ১৭ জন ফাইজারের টিকা পেয়েছে। নিধির বাবা শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা নন্দ গোপাল কুণ্ডু বলেন, ‘আমি করোনার তিন ডোজ টিকা নিয়েছি। বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার খবর শুনে আগ্রহী হয়েছি তাদেরও টিকা দিয়ে রাখতে। স্কুলে টিকার জন্য বাচ্চাদের নির্বাচন করা হচ্ছে শুনে মেয়ের নাম দিয়েছি। তারা সুরক্ষিত থাকুক।’

নির্বাচিত ১৭ শিক্ষার্থীকে গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। টিকা দেওয়ার জন্য তাদের সারি বেঁধে দাঁড় করান স্বাস্হ্য কর্মীরা। সেই সময় স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস-সহ কয়েক জন সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক এবং পুলিশের ভিড় দেখে শিশুরা কিছুটা ‘ভড়কে’ যায়। সারিতে প্রথমে ছিল তৃতীয় শ্রেণির রূপা আক্তার। এরপর দ্বিতীয় শ্রেণির সৌম্য দ্বীপ দাসের পালা ছিল। তবে তারা পিছিয়ে যাওয়ায় প্রথম টিকা দেওয়া হয় নিধি নন্দিনী কুণ্ডুকে। পরে অবশ্য সব শিশুকেই পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হয়। টিকাদান শেষে শিশুদের সবার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় রঙিন বেলুন।

সারা দেশে ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করে স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শিশুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে। বাকি টিকার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি মিলেছে। টিকাদানসহ করোনা চিকিত্সায় বাংলাদেশ সফল উল্লেখ করে স্বাস্হ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার চিকিত্সায় আমরা সফল হয়েছি। টিকাদান কর্মসূচিতেও আমরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। দেশবাসী আমাদের প্রশংসা করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন। দেশের বাইরেও বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা, ইউনিসেফ, ব্লুমবার্গ প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অনেক প্রশংসা করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ১২ থেকে ১৮ বছরের ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৮৩ শতাংশ। কোভিড মহামারির কারণে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন এই শিশুদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সুরক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। তাদের টিকা দেওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ৫-১১ বছরের শিশুদের এই টিকা কার্যক্রম সারা দেশের ১২ সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হবে। টিকার প্রথম ডোজ চলবে ২৫ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই মাস পর শিশুরা দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবে।

স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্হ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্হ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্হিত ছিলেন স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. শামছুল হক, বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট, বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার প্রতিনিধি ড. বরদান জং রানা প্রমুখ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি