বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় ও অপব্যয়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৪

আল্লাহর নবি (স.) বলেছেন, ‘আদম সন্তান যে সমস্ত ভাণ্ডার পূর্ণ করে, তন্মধ্যে পেট হল সবচেয়ে খারাপ। আদম সন্তানের জন্য স্বল্প কিছু লোকমাই যথেষ্ট, যা দিয়ে সে তার পিঠ সোজা রাখতে পারে। এর বেশী করতে চাইলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য যেন নির্দিষ্ট করে।’ [তিরমিযি ২৩৮০, ইবন মাজাহ ৩৩৪৯, মুসনাদে আহমাদ ৪/১৩২]

আল্লাহ তাআ’লা পৃথিবীকে আমাদের প্রয়োজনীয় বস্তু ধারা শুশোভিত করেছেন। তিনি অপচয় ও অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করে প্রতিটি বস্তুর সঠিক ও পরিমিত ব্যবহার করতে বলেছেন। ইসলামে সকল কিছুর ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে উত্সাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: আর তোমাদের অর্থ-সম্পদ অপ্রোয়জনীয় কাজে খরচ করবে না। জেনে রেখো, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ। (সুরা বনি ইসরাইল-২৬ :২৭)

বৈধ কাজে প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যয় করাকে অপচয় এবং অবৈধ কাজে কোনো কিছু ব্যয় করাকে অপব্যয় বলে। শুধু টাকা-পয়সা নয় খাদ্য-পানীয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সময় ও মেধার ব্যবহারেও আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। আজ বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ গ্যাস ও বিদু্যত্ ব্যবহারে অপচয় যেনো না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করছেন। কারণ পৃথিবীর যেকোন খনিজ সম্পদ এক বার শেষ হয়ে গেলে পুনরায় তৈরি করা সম্ভব নয়।

সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো; কিন্তু অপচ্যয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ এথেকে বুঝা যায় আল্লাহ তাআ’লার অসংখ্য নেয়ামত হতে মানুষের জন্য বৈধ বস্তু ভক্ষণ করা যাবে, তবে প্রয়োজনাতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে না।

হাদিসে এসেছে, ‘যা ইচ্ছা পানাহার করো এবং যা ইচ্ছা পরিধান কর, তবে শুধু দুটি বিষয় থেকে বেঁচে থাক। (এক) তাতে অপব্যয় অর্থাৎ প্রয়োজনের চাইতে বেশি না হওয়া চাই এবং (দুই) গর্ব ও অহংকার না থাকা চাই। [বুখারী] তবে এ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বাভাবিক সীমা দিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর নবি (স.) বলেছেন, ‘আদম সন্তান যে সমস্ত ভাণ্ডার পূর্ণ করে, তন্মধ্যে পেট হল সবচেয়ে খারাপ। আদম সন্তানের জন্য স্বল্প কিছু লোকমাই যথেষ্ট, যা দিয়ে সে তার পিঠ সোজা রাখতে পারে। এর বেশি করতে চাইলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিঃশ্বাসের জন্য যেন নির্দিষ্ট করে।’ [তিরমিযী ২৩৮০, ইবন মাজাহ ৩৩৪৯, মুসনাদে আহমাদ ৪/১৩২]

সাগরপাড়ে বসেও পানি অতিরিক্ত ব্যবহার করাও যদি অপচয় হয় তাহলে একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় দৈনন্দিন জীবনে আমরা কী পরিমাণ অপচয় করছি। প্রয়োজনাতিরিক্ত ফ্যান, লাইট ব্যবহার করা যাবে না। এই অপচয়ের জন্য জাতীয় সংকট তৈরি হচ্ছে। এজন্য ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। (সুরা ফুরকান : ৬৭)। অতএব, আমাদের উচিত আল্লাহ তাআ’লার দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তার সঠিক ব্যবহার করা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন