মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জ্বালানি সংকট সামলানোর আশ্বাস দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ১৫:৪৮

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি কমে গেলেও শীতের মাসগুলিতে মানুষের দুর্দশা কমাতে সরকার সব রকম পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি কমে গেলেও শীতের মাসগুলিতে মানুষের দুর্দশা কমাতে সরকার সব রকম পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস।

ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলার জের ধরে জার্মানি তথা ইউরোপে জ্বালানির ক্ষেত্রে যে সংকট দেখা দিচ্ছে, সেটা অবশ্যই বিশাল এক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। বিশেষ করে আসন্ন শীতের মাসগুলিতে ঘরবাড়ি গরম রাখতে বিশাল মাত্রার মাসুল দেবার সামর্থ্য থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন অনেক মানুষ। জার্মানির সেই সব মানুষকে আশ্বস্ত করে শলৎস বলেন, তার সরকার এমন অঘটন ঘটতে দেবে না। 

ইউক্রেন সংকটের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসসহ সার্বিকভাবে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জার্মানির অর্থনীতির উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। আরও খারাপ সময়ের আশঙ্কায় জার্মানিতে অসন্তোষ বাড়ছে। জ্বালানি পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশেষ করে শীতের মাসগুলিতে মানুষ আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারেন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর তার গ্রীষ্মকালীন সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে সব রকম পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক অতীতে সরকারের একাধিক উদ্যোগের উল্লেখ করেন। মানুষের উপর আর্থিক বোঝা কমানো থেকে শুরু করে জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার মতো একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ধাক্কা কিছুটা সামলানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।  

শীতের মাসগুলিতে জার্মানিতে হিংসাত্মক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের আশঙ্কা করছেন না জার্মান চ্যান্সেলর। জার্মানিতে সামাজিক কল্যাণের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কারণে এমন নাটকীয় পরিস্থিতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও মানুষের পক্ষ থেকে নানা দাবি উঠবে বলে ওলাফ শলৎস মনে করছেন।

জার্মানি যখন পরমাণু বিদ্যুতের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা এবং জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ইউক্রেন সংকটের কারণে রাশিয়া থেকে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস আমদানি বন্ধ করার মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সরকারকে তেল ও কয়লাচালিত বেশ কিছু বাতিল বিদ্যুৎ কেন্দ্র আবার চালু করার অনুমতি দিতে হয়েছে। চ্যান্সেলর শলৎস বলেন, এমনকি জার্মানির অবশিষ্ট তিনটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। চলতি বছরের শেষেই সেগুলি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এমন সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর উপর জোর দিচ্ছে জার্মান সরকার। ওলাফ শলৎস এ প্রসঙ্গে ‘সার্বভৌমত্ব' শব্দটি প্রয়োগ করেন। এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও অনেক বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনেরও মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি মনে করেন। অতীতে জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, সেই যুক্তিও তিনি কার্যত মেনে নেন। 

জার্মানির প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল সিডিইউ-র শীর্ষ নেতা ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জ্বালানি নীতির প্রশ্নে বর্তমান জোট সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। বিশেষ করে সরকারের শরিক সবুজ দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জার্মানির অবশিষ্ট তিনটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দল দেশের দুর্দিনেও গোঁড়া আদর্শবাদী অবস্থান আঁকড়ে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই তিনটি কেন্দ্র চালু রাখতে এখনই প্রয়োজনীয় সেন্ট্রিফিউজ অর্ডার দিতে তিনি অবিলম্বে সংসদে প্রস্তাব পেশ করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে চ্যান্সেলর শলৎসকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে বিরোধী নেতা মনে করেন। 

ইত্তেফাক/এসআর