শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নোবেলের দ্রুত শাস্তি দাবি বিশিষ্টজনদের

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ২০:২০

দেশের সংগীত জগতের বিতর্কের নাম মাইনুল আহসান নোবেল। গেয়ে তেমন প্রতিষ্ঠা বা পরিচিতি না পেলেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সবাই তাকে এক নামে চেনে। তার আপত্তিকর মন্তব্য থেকে রেহাই পাননি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। সম্প্রতি বিশ্বকবিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও বিতর্কিত পোস্ট দিয়েছেন নোবেল। এর আগের রবীন্দ্রনাথ রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন এই নোবেল। তার এমন আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। একইসঙ্গে তারা নোবেলের শাস্তিও দাবি করেছেন।

বুধবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার রাবীদ্র সাহিত্যচর্চা অবিলম্বে বাংলাদেশ থেকে বয়কট করার দাবি জানান।

কবি ও সাংবাদিক অসীম সাহা বলেন, ‘কিছু লোক আছে, যারা মানুষের দৃষ্টি অকর্ষণের জন্য বিশিষ্টজনকে নিয়ে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমকক্ষ তার রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করতে পারে কিন্তু এই সব মূর্খ বা হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা আবর্জনাগুলো যা মনে আসে, তাই বলে। এদের উপেক্ষা করে দেশের আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিষয়টি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে শক্তভাবে দেখতে হবে। এই অবর্জনাগুলোকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাই হলো একমাত্র সমাধান।’

বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক, কবি-গবেষক ও গীতিকার ড. তপন বাগচী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো একজন মানুষকে নিয়ে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করা উচিত নয়।  যারা এই ধরনের মানুষদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে, তাদের সাংস্কৃতিক জ্ঞানের অভাব আছে। নোবেল যে সংগীতশিল্পী, সেটা ভাবতেই আমাদের কষ্ট হয়।’ তিনি আরও বলেন,  ‘এ ধরনের মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। প্রয়োজনে আইনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নোবেলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

এই বিষয়ে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অনিমা রায় বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে, যারা স্টান্টবাজি করে টিকে থাকতে চায়। শিল্প নয়, এটাই তাদের রুটিরুজির উপায়।  সে যদি ভালো মানুষ হতো, তাহলে সে রবীন্দ্রনাথকে অসম্মান করতো না। আসলেই যারা শিল্পী, তারা কখনো উগ্র হবে না। তারা হবে বিনয়ী। তিনি  আরও বলেন, ‘এই ছেলে তো জানেই না কোনটা বলা উচিত, আর কোনটা উচিত নয়। এরা শিল্পীর মধ্যেই পড়ে না। তবে যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিকে নিয়ে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

জনপ্রিয় গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবু বলেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে যে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করে,  সে আসলেই একটা পাগল। গাধা কেনোদিন ঘোড়া হবে না। তারা হয়তো নিজেকে ঘোড়া ভাবে, কিন্তু আসলেই গাধা। আমি সংগীতের মানুষ হিসেবে বলবো, যারা কবিগুরুকে নিয়ে এমন অশালীন মন্তব্য করে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

এর আগে ইথুন বাবুকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন নোবেল। সেজন্য মাললাও করেছিলেন এই গীতিকার। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পী নামের কলঙ্ক এই নোবেল আমাকে নিয়েও মিথ্যে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। পরে আমি কোর্টে মামলা করেছি। সেই মামলা এখনো চলছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে জড়িত করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে পোস্ট করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ জাতীয় সংগীত সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে গানটিকে জাতীয় সংগীত থেকে বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। এছাড়া লিজেন্ড শিল্পীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তিনি। গানের সুর ও সংগীতায়োজনের মালিকানা নিয়ে সংগীত পরিচালক আহমেদ হুমায়ূনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন