শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষকরা

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৩:২৪

সোনালি আঁশ পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঈশ্বরদীর কৃষকরা। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। অধিকাংশ খাল, বিল, ডোবা ও জলাশয়ে পানি নেই এবারে। যেটুকু পানি আছে তা পাট পঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। ভরা বর্ষা মৌসুমেরও প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না। বিগত ৪২ বছরের মধ্যে আষাঢ়- শ্রাবণ মাসে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়নি বলে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ২০২১ সালে জুন-জুলাই মাসে ঈশ্বরদীতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১১.৭৫ মিলিমিটার। আর ২০২২ সালে দুই মাসে গড় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২.৫৫ মিলিমিটার। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবারে ৭৮.৩০ভাগ কম বৃষ্টি হয়েছে।

সামর্থ্যবান কৃষকরা শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুরে পানি সেচ দিয়ে পাট জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। সামর্থ্যহীন কৃষকরা পানির অভাবে জমি থেকে পাট কাটতে পারছেন না। জমিতে পাটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির আশায় পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছে অনেকেই। অনেকে বাড়ি বা সড়কের পাশের ডোবা, খাল ও জলাশয়ের হাঁটু পানিতে বালির বস্তা চাপা দিয়ে পাট পচানোর জন্য জাগ দিচ্ছেন। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।
এরআগে বেশীরভাগ পাটের জমিতে আখ চাষ করা হতো। পাবনা সুগার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আখের জমিতে এখন কৃষকরা পাটের আবাদ করছেন। সুগারমিল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে পাটের উচ্চ মূল্য থাকায় ঈশ^রদীতে আগের চেয়ে পাট চাষ বেড়ে গেছে। এদিকে পানির অভাবে আমনের রোপণও পিছিয়ে যাচ্ছে। পাট কেটে ওই জমিতেই আমন ধানের চারা রোপন করা হয়। রোপন পিছিয়ে গেলে আমনের ফলন কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।

ভাটাপড়ার কৃষক রফিক মোল্লা জানান, তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে; কিন্তু এবার পানি না থাকায় ডোবায় হাঁটু পানিতে বালির বস্তা চাপা দিয়ে পাট জাগ দিতে বাধ্য হয়েছি। এ কারণে পুকুরের মাছ মারা গেছে।

লক্ষীকুন্ডার ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, এ বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে; কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না। গত বছর পাটের দাম বেশি পাওয়ায় চলতি বছর পাটের আবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন এলাকার কৃষকরা। নির্বিঘেœ পাটের আবাদ হলেও এখন পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি। পানির অভাবে এখনও যেমন ক্ষেতের পাট কাটা হচ্ছে না, তেমনি আমনের চারা রোপণও পিছিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমরা পড়েছি চরম বিপাকে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার পাবনা সুগার মিল বন্ধ হওয়ায় আগের চেয়ে পাটের আবাদ বেড়েছে জানিয়ে বলেন, এবারে উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির অভাবে জমিতে এখনও অনেক পাট রয়ে গেছে। কৃষকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সরকারি জলমহালে পাট জাগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমনের চারা রোপন পিছিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো আমন ধান চাষ না হলে উৎপাদনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ