বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফরম বান্ধব নীতিমালা চান উদ্যোক্তারা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৫:০৬

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রণয়ন করতে যাওয়া ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফরম বিষয়ক নীতিমালাকে শিল্পবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত রেগুলেশন অব ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফরমস : দ্য নিড টু স্ট্রাইক দ্য রাইট ব্যালান্স শীর্ষক সেমিনারে তারা এ দাবি জানান। 

সেমিনারে উদ্যোক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিউ মিডিয়া অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা এই সৃষ্টিশীল খাতে বিনিয়োগ করছেন। নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল ও ডিজিটাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফরমগুলো ভূমিকা রাখছে। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালাগুলো এ খাতের বিকাশে সহযোগিতামূলক হওয়া জরুরি। একই বিষয়ে দুটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার শঙ্কা করেন বক্তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, এ সংক্রান্ত নীতিমালার খসড়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রস্ত্তত করা হয়েছে। তারপরও সবার মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন করে চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরির আশ্বাস দেন মন্ত্রী। দুই মন্ত্রণালয়ের একই বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন, রেডিওসহ সম্প্রচার মাধ্যমগুলো তদারকির দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয়ের। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়াসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফরমসহ অন্যান্য মাধ্যমের দায়িত্ব ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের। তাই দুটো ভিন্ন এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় দুই মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। 

নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফেসবুক, ইউটিউব যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্ষাপটে তৈরি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সেগুলোর কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য নেই। তাই এসব প্ল্যাটফরমে নিরাপদ কনটেন্ট নিশ্চিত করার জন্য এই নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। সরকার বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী কোনো কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না।

মন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারির মধ্যে দেশে ফাইভজির হোম নেটওয়র্ক চালু হবে। যার মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন করা যাবে। বিশ্ব এখন ৪র্থ শিল্পবিপ্লব পার হয়ে ৫ম শিল্পবিপ্লবের দিকে এগোচ্ছে মন্তব্য করে ব্যবসায়ীদের আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন পিএএ জানান, আদালতের নির্দেশেই দুটি মন্ত্রণালয় তার নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে। তাই নীতিমালা দুটি সাংঘর্ষিক হবার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নীতিমালার কারণে যেন নতুন এই সম্ভাবনাময় শিল্পের বিকাশ সংকুচিত না হয়ে যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয় কোন কোন বিষয় তদারকি করবে সে বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করার তাগিদ দেন সভাপতি। তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল যেসব সুযোগ তৈরি হয়েছে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান জসিম উদ্দিন। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও তাগিদ দেন তিনি।

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু কোভিড মহামারিকালীন তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাসহ সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। মূল প্রবন্ধে খসড়া নীতিমালায় শাস্তির বিধানকে কমানো, নেট নিউট্রালিটি নিশ্চিত করা এবং প্ল্যাটফরমগুলোর নিজস্ব ও সরকারি নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় আনার সুপারিশ করা হয়।

প্যানেল আলোচনায় এফবিসিসিআইর পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির জানান, ওটিটি প্ল্যাটফরমের বৈশ্বিক বাজারের আকার ১৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৭ সাল নাগাদ ২৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এমন সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে শিল্পবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (সিস্টেম ও সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ জানান, দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবসা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রÕু¦ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ফেসবুক, টিকটকসহ ৬১টি সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে সংস্থাটি। ভারত, নিউজিল্যান্ডের নীতিমালাও যাচাই করে দেখা হয়েছে। যে কোনো ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমগুলো বিটিআরসি বিনা মূল্যে নিবন্ধন করতে পারবে বলে জানান বিটিআরসির (সিস্টম ও সার্ভিসেস) মহাপরিচালক।

অনলাইন প্ল্যাটফরমে প্রকাশের আগে যাচাইযোগ্য কনটেন্ট এবং যেগুলো যাচাইযোগ্য নয়, এমন কনটেন্টের জন্য আলাদা নীতিমালার দাবি করেন ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটার পাবলিক পলিসি বাংলাদেশের প্রধান শাবনাজ রশিদ দিয়া। আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে রেগুলেশনস ফর ডিজিটাল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড ওটিটি প্ল্যাটফরম ২০২১ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে বলে জানানো হয় সেমিনারে। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

ইত্তেফাক/ইআ