বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কয়রায় পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫ গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৮:০৬

খুলনার কয়রায় জোয়ারের পানির তোড়ে কপোতাক্ষ নদের চরামুখা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ।

এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিন ধরে খুলনার উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। নিম্নচাপের কারণে থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে। বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ। একই সঙ্গে নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির চাপে চরামুখা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনগণ ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত করলেও রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরের জোয়ারের পানির তোড়ে আবারও সেই বাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোড়ল আছর আলী জানান, রবিবার দুপুরে কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির তোড়ে চরামুখা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে চরামুখা, হলুদবুনি, দক্ষিণ বেদকাশি, আংটিহারা ও ঘড়িলাল গ্রাম লবণ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ঘরবাড়ি, ফসলি খেত ডুবে গেছে। মানুষজন বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছে।

এদিকে, কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর কয়রা গ্রামের পাউবোর বেড়িবাঁধের স্লুইসগেটর পাশ দিয়ে পানি চুইয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাটকাটা-হরিহরপুর সড়কের দুই জায়গায় বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। 

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, গত এক মাস আগেও কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের পানির তোড়ে চরামুখা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছিল। তখন মেরামত করে বাঁধের ভাঙ্গন রোধ করা হয়েছিল। একমাস পর রবিবার আবারো সেই স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন মেরামতের কাজ চলছে। যদি সোমবার জোয়ারের আগে এই ভাঙ্গন মেরামত করা সম্ভব না হয় তাহলে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন ঠেকানো খুবই কঠিন কাজ। এখানে শক্ত মাটি পাওয়া যায় না। তাছাড়া বাঁধের দুই পাশেই পানি থাকে। সে কারণে সহজে বাঁধ মেরামত করা যায় না। তারপরও আমরা ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধও যাতে না ভেঙ্গে যায় আমরা সে চেষ্টাও করছি।

ইত্তেফাক/এমএএম