পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, স্থানীয় বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমানো, ব্যবসাবাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার অতিদ্রুত বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে পণ্য আমদানি ব্যাহত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে অর্থনীতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারিখাতের দৃষ্টিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন ২০২২) বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এমপি।
ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান উক্ত ওয়েবিনারে ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনীতির সার্বিক প্রেক্ষাপটের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে গত অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ এবং আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এছাড়াও কোভিড মহামারির কারণে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের হার ২৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যদিও গত অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি প্রথম বারের মতো ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ঋণ গ্রহণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বেসরকারিখাতে ঋণপ্রবাহ আশাব্যঞ্জক নয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। বৈশ্বিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সাপ্লাইচেইন প্রভাবিত হওয়ায় স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে দেশের সাধারণ জনগণ, এ অবস্থা নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিকে নিরুত্সাহিত করছে, তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের মূল্যের অস্থিতিশীলতা নিরসনে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান রিজওয়ান রাহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এ মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা বেশ ভালো নয়, সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে, তারপরও আমাদের রিজার্ভ সাড়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম, যা বেশ স্বস্তিদায়ক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মুদ্রা প্রবাহ স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে অর্থনীতির গতিধারা অব্যাহত রাখতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করে আসছে এবং বিশেষ করে কোভিড মোকাবিলায় বেশ কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করেছে।
তিনি জানান, ভারত এবং চীনের মতো বেশ কিছু দেশের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের ম্যানুফেকচারিং খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কম থাকায় শিল্প-কারখানায় পণ্য উত্পাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায় ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পাবে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পেলে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের ওপর তিনি জোরারোপ করেন। ডলারের ক্রয়-বিক্রয়ের তফাত ১টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধে তিনি রাজস্ব কাঠমোর পুরোপরি অটোমেশনের আহ্বান জানান এবং সাব-কনট্রাকটিংয়ের ওপর এনবিআর প্রবর্তিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।
