বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গাঁজার টাকা পরিশোধ করতে গরুচুরি!

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ১৮:২৫

ভুরুঙ্গামারীতে বকেয়া গাঁজার টাকা পরিশোধ করতে গরু চুরি করে জনতার হাতে ধরা খেলেন দুই গাঁজা ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি বাজারপাড়ায়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের দায়িত্বে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়।

জানা গেছে, সোনাহাট স্থলবন্দর হওয়ার পর এলাকায় মাদকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি বাজার পাড়ার মো. ফারুক মিয়া (৩০)  ও রতন মিয়া (৩৫) ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ভোটেরহাট এলাকার আবুল কালামের মাধ্যমে ভারত থেকে গাঁজা এনে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় বিক্রি করে আসছে।  

কিছুদিন আগে ফারুক ও রতন গাঁজা সরবরাহকারী মহাজনের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকার গাঁজা বাকি নিয়ে আসে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও টাকা পরিশোধ না করায় ঐ ব্যবসায়ী তাদের কাছে গাঁজা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে বাকি টাকা পরিশোধের জন্য তারা গরু চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গত রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার সময় একই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের একটি ৭০ হাজার টাকা মূল্যের শাহিওয়াল জাতের বকনা গরু সোনাহাট হাই স্কুল মাঠে বেঁধে রাখলে তারা দুজন মিলে চুরি করে নিয়ে যায়।

এ সময় আশপাশের মানুষ জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, গরুকে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে গরুটি অটোরিক্সা যোগে ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ভোটহাট গ্রামের গাঁজা সরবরাহকারী মহাজন আবুল কালামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর গরুটি বিক্রি করে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু গাঁজা সরবরাহকারী মহাজন আবুল কালাম গরুটি বিক্রি না করে কৌশলে তার পাওনা ৭ হাজার টাকার জন্য গরুটি আটকে রাখে। উপায় না পেয়ে চোর ফারুক ও রতন আবার সোনাহাট ফিরে যায়। 

এদিকে গরুর মালিক তার গরু না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ফারুক ও রতনকে গরু নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। গরুর মালিক আব্দুস ছাত্তার এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে তাদের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা গরু চুরি এবং সেটি কোথায় আটক আছে তা জানিয়ে দেয়। পরে এলাকাবাসী জুয়েল মিয়া ও আনসার ভিডিপির সদস্য রমজান আলী নগদ ৭ হাজার টাকাসহ ধৃত দুই গরু চোরকে নিয়ে ভোটেরহাটের গাঁজা সরবরাহকারী মহাজন আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে টাকা দিয়ে গরু উদ্ধার করে।

এরপর সোনাহাটে ফিরে এসে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মায়নুল ইসলাম লিটনকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়। চেয়ারম্যান ঘটনাটি জানার পর গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে আটক ২ গাঁজা ব্যবসায়ী গরুচোর ও চোরাই গরু ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় নিয়ে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে খবর দেয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মায়নুল ইসলাম লিটন জানান, আটক ২ গরু চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, গাঁজার বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে গরু চুরি করেছে। এ ঘটনা জানার পর আটককৃত বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। 

 ভুরুঙ্গামারী থানা ওসি আলমগীর হোসেন জানান, সোমবার (১৫ আগস্ট) মামলা দায়েরের পর আসামিদের কুড়িগ্রাম কোর্টে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি