রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অভিনব কায়দায় পাচারকালে ইয়াবাসহ ৬ ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ১৯:২৪

কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে ভাড়ায়চালিত গাড়িতে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে ইয়াবা পাচারকালে ৬ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে কক্সবাজার কলাতলী সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে মিনি কার তল্লাশি করে এসব ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়। জাতীয়

গ্রেফতাররা হলেন, কারটির চালক টেকনাফ সদরের মৌলভীপাড়া গ্রামের লোকমান হাকিমের ছেলে রফিক (২৪), নাজিরপাড়া গ্রামের জাফর আলমের ছেলে সৈয়দ নুর (২৬), উত্তর নাজিরপাড়া গ্রামের আব্দু শুকুরের ছেলে সৈয়দ উল্লাহ এবং মৌলভীপাড়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে সিদ্দিক (৪০), চকরিয়ার পূর্ব নিজপাড়ার মৃত শাহ আলমের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী ওসমান (৩০) এবং টেকনাফের নোয়াখালীপাড়ার ছৈয়দুর রহমানের ছেলে ইব্রাহিম (২০)। শেষের দু'জনকে শহরের জেল গেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে পূঁজি করে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে তারা মাদকের চালান পাচার করছিল বলে জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-ডিবি) সাইফুল আলম।

ডিবির ওসি সাইফুল আলম বলেন, সোমবার সকাল থেকে সবাই জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, একে পূঁজি করে মাদক পাচার চক্র ইয়াবার চালান আনছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যে এ খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানের নির্দেশনায় আমার নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার কলাতলী সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়। সোর্সের দেওয়া তথ্যে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভে ভাড়ায়চালিত প্রাইভেটকার তল্লাশি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তল্লাশিতে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ায় সোর্সের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করে ওভার কনফার্ম হই। এতে গাড়িচালক রফিক, সঙ্গে থাকা সৈয়দ নুর, সৈয়দ উল্লাহ এবং সিদ্দিককে আটক করে গাড়িতে ইয়াবার অস্তিত্ব সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা মাদক পাচারের তথ্য অস্বীকার করে।

ডিবির ওসি জানান, পরে আটকরাসহ গাড়িটি কলাতলী সংলগ্ন স্থানীয় ওয়ার্কসপে নিয়ে মেকানিকের সহায়তায় গাড়ির বিভিন্ন অংশ খুলে আবারও তল্লাশি করা হয়। এক পর্যায়ে গাড়ির নীচে বিশেষ কায়দায় সংযোজন করা বক্সে লুকানো স্কচটেপ দ্বারা মুড়ানো ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বেলা ১২টার দিকে উপস্থিত লোকজনের সামনে দশটি প্যাকেটে উনিশ হাজার পিচ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত কারটিও জব্দ করা হয়।

ওসি বলেন, ইয়াবার সন্ধান নিশ্চিত হবার পর প্রথমে আটকদের গ্রেফতার দেখিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ইয়াবা রিসিভ করার জন্য অপেক্ষায় থাকা চক্রের অন্য দুই মাদক ব্যবসায়ী ওসমান এবং ইব্রাহিমকে কক্সবাজার শহরের জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। সবমিলিয়ে মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত মোট ছয় জন কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি পলাতক আরো কয়েকজনকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবির ওসি সাইফুল আলম জানান, মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে চলাচলকারী ভাড়ায় চালিত অনেক গাড়ি যাত্রী পরিবহনের আড়ালে এরকম অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহন করে। এরকম তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত আজকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ছয়জনকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি