এবার এলএনজি নিয়েও উদ্বেগ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ০২:৫৫

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে গ্যাস রূপান্তরকরণের (রিগ্যাসিফিকেশন) পরিমাণ। উৎপাদন অর্ধেকে নামলেও পূর্ণ সক্ষমতার জন্য মাশুল (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে সরকারকে। এ বাবদ দিনে ২ কোটি টাকার বেশি (২ লাখ ২ হাজার ৫০০ ডলার) পরিশোধ করা হচ্ছে। ডলার সংকটের মধ্যে উৎপাদন ছাড়াই এ বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধের ফলে বিদ্যুৎ খাতের পর এবার গ্যাস খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে ‘মাথাব্যথা’ তৈরি হয়েছে।

একদিকে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সে ধারায় দৈনিক এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনও কমেছে। দিনে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও তা প্রায় অর্ধেক কমে ৫৫-৫৬ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতায় কখনোই চলতে পারেনি। এ অবস্থায় পেট্রোবাংলা উভয় সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ না থাকায় ২০১৮ সালের আগস্টে দেশে প্রথম এলএনজি থেকে গ্যাস রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল যাত্রা শুরু করে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি টার্মিনালের প্রত্যেকটির দৈনিক উৎপাদন (রিগ্যাসিফিকেশন) সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। দুটিই ইজারা ভিত্তিতে পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। প্রথমটির মালিকানা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা এবং দ্বিতীয়টির মালিক একটি বেসরকারি কোম্পানি।

পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুটি টার্মিনালকে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের (রিগ্যাসিফাই) জন্য দৈনিক সাড়ে ৪ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হয় পেট্রোবাংলাকে। পেট্রোবাংলা এক্সিলারেট এনার্জিকে দিনে ২ লাখ ৩৭ হাজার ডলার এবং বেসরকারি কোম্পানিটিকে ২ লাখ ১৭ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হয়। তারা গ্যাস রিগ্যাসিফাই করুক বা না করুক এ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করার শর্ত চুক্তিতে রয়েছে। ফলে যত কম গ্যাস রিগ্যাসিফাই হবে তত বেশি পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাবে পেট্রোবাংলার। এখন পর্যন্ত এক দিনে সবচেয়ে কম রিগ্যাসিফাই হয়েছে ৪২.৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এর ফলে ঐ দিন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪০০ লাখ ডলার ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়। এর আগে টার্মিনাল নির্মাণের সময়ও বিভিন্ন ধরনের কর-শুল্ক রেয়াত পেয়েছে টার্মিনাল নির্মাতা কোম্পানি।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের প্রাক্তন অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, দুর্বল দর কষাকষি এবং অদূর দৃষ্টিসম্পন্ন শর্তের কারণে এলএনজিতে বাড়তি অর্থ গচ্চা যাচ্ছে সরকারের। এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা। যার ফলে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইআ