পাকিস্তানের 'এশিয়ার বাঘ' হওয়ার কথা ছিল কিন্ত...: শেহবাজ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ২২:০৬

একসময়ে পাকিস্তানকে এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক 'এশিয়ার বাঘ' হিসেবে ভাবা হত। কিন্তু বর্তমানে দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার শিকার। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বেশকিছু অবকাঠামোগত ভুলের কারণে অর্থনৈতিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

রবিবার (১৪আগস্ট), দেশটি স্বাধীনতার ৭৫ বছরে পদার্পণ করে। এই উপলক্ষ্যে শেহবাজ শরিফ দ্য ইকোনোমিস্ট পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, দেশটির স্বাধীনতার পরপর উন্নতির লক্ষে অনেক আশাবাদী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল। 

তিনি প্রবন্ধটিতে আরও বলেন, দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের জীবদ্দশায় ঘটিত সবচেয়ে কঠিন বৈশ্বিক নীতির ফলাফল। ইউরোপের চলমান সংঘাত যুদ্ধ পরবর্তী বৈশ্বিক অবস্থা অত্যন্ত এলোমেলো করে ফেলছে, লেখেন শেহবাজ। তিনি এসব ঘটনাগুলো পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হিসেবে দাবি করেন।

শেহবাজ দেশটির অভ্যন্তরীণ দুরাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ৫ দশক ধরে চলা এসব সমস্যা আমাদের বারবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের  (আইএমএফ) কাছে দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেছে। এভাবে উন্নতদেশগুলো তৈরি হয়নি। 

শেহবাজ এরপর দেশটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ত্রুটির কথা বলেন, যা দেশটির অর্থনৈতিক মন্দার পেছনে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রথমত, তিনি দেশটির রাজনৈতিক অবস্থার দিকে আঙ্গুল তোলেন। তার ভাষ্যমতে, দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কীভাবে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া যায় এ ব্যাপারে কাজ করার বদলে একে অন্যের পেছনে লেগে থাকার মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে। 

দ্বিতীয়ত, দেশটিতে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ হতাশাজনক বলে মনে করেন শেহবাজ। যুদ্ধকবলিত আফগানিস্তানের লাখো শরনার্থী দেশটিতে আশ্রয় নেয় যার ফলে তাদের পেছনেও একটি উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। 

তৃতীয়ত, বৈশ্বায়নের ফলে যেসব উন্নতির সম্ভাবনা ছিল তা ক্রমশই কমতে থাকে। একইসঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক বন্ধুরাষ্ট্র তৈরিতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান, বলেন শেহবাজ।

শেহবাজ আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম দেশ যেখানে প্রতি ৩ জন নাগরিকের ২জনের বয়সই ৩০ এর নিচে। এমন উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও দেশটির গড় বাৎসরিক অ্যায় মাত্র ১হাজার ৭৯৮ মার্কিন ডলার। 

প্রতি তিনজনে একজন দিনে ৩ দশমিক ২০ মার্কিন ডলারে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে, বলেন শেহবাজ। চারভাগের একভাগেরও কম নারী ঘরের বাইরে কাজ করেন। তিনি আরও বলেন, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক লিখতে পড়তে জানেনা। 

শেহবাজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পুরো বিশ্ব বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে। এখনই যদি আমরা সঠিক ব্যাপারগুলোতে মনোযোগ দেই, তাহলে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। 

ইত্তেফাক/এমএ/এসআর