তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে ফুটবল দুনিয়া থেকে ফিফা ভারতকে সাসপেন্ড করেছে। নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ফুটবলকে। দুই দিন কেটে গেল। এখনো অন্ধকারে ভারতীয় ফুটবল। আদালত পাড়ায় ভারতীয় ফুটবলের ভাগ্য।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ফুটবল সংকট সমাধান করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু শুনানি স্থগিত করে নতুন তারিখ দিয়েছে আগামী ২২ আগস্ট। তার মানে হচ্ছে আগামী সোমবারের আগে জানা যাচ্ছে না ভারতীয় ফুটবলের ভাগ্য খুলবে কবে। ঐ দিনই বিচারপতিরা একটা রায় দেবেন। এরই মধ্যে আদলতে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, ফিফার সাসপেনশনের কারণে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ ফুটবল সরিয়ে নিতে পারে ফিফা। এই নারী বিশ্বকাপ ফুটবল ভারতের মর্যাদার বিষয়। এরই মধ্যে তাসখন্দে খেলতে গিয়ে ভারতের ২৩ নারী ফুটবল দল আটকে গিয়েছে। ফিফার নির্বাসনের খবরে সেখানে ভারতীয় দলকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি। এইফসি নারী ফুটবলে খেলতে গিয়েছিল ভারত।
ভারতকে সাসপেন্ড করায় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে সাফ। কারণ নারী সাফের খেলা রয়েছে নেপালে। বাংলাদেশের গ্রুপে খেলবে ভারত। গতকাল সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল এবং সাফের অন্যান্য দেশের কর্মকর্তারা ভাচুর্য়াল মিটিং করেছেন। তারা একটু অপেক্ষা করতে চান। বলছেন আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেখবেন। কারণ সাফে যে নারী টুর্নামেন্ট রয়েছে সেটির গ্রুপিং ফিকশ্চার সবই চূড়ান্ত। কিন্তু হঠাৎ ফিফা ভারতকে সাসপেন্ড করায় সাফ নিয়েও টেনশন রয়েছে। ভারততে বাদ দিয়ে নারী সাফ আয়োজন করবে। তার আগে এএফসির সঙ্গেও কথা বলবে সাফ।
আগামী ২২ আগস্ট সিদ্ধান্ত না হলে ফিফার সব সুবিধা বন্ধই থাকবে। ফিফা বার্ষিক অনুদান দেয় ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক কোনো খেলা খেলতে পারবে না। রেফারি, সহকারী রেফারিরা ম্যাচ পাবেন না। ইরাকে ১৪ সেপ্টম্বর থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে যেতে পারবে না। ২৪ ও ২৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনামের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারবে না। ৭ সপ্টেম্বর এএফসি কাপের আন্তঃআঞ্চলিক সেমিফাইনালে মোহনবাগান খেলতে পারবে না। সবচেয়ে বড় ধাক্কা হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সুযোগ হারাবে ভারত। এ সবকিছুর ভাগ্য এখন আদালতের টেবিলে। ফিফার চাওয়া অনুযায়ী কাজ হলে সব বাধা সরে যাবে।
