চা-শ্রমিকদের ধর্মঘটে অচল কারখানা, প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে চা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৬:০৪

৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে চা-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে সারা দেশের চা কারখানাগুলো। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই বিভিন্ন চা-বাগানে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সরেজমিন আলীনগরসহ কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা আন্দোলনে নেমে পড়ায় চা কারখানাগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে চা কারখানাসমূহে রাখা হাজার হাজার কেজি কাঁচা চা-পাতা বিনষ্ট হচ্ছে। এতে চা-বাগানের মালিকেরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি গুনছেন বলে ম্যানেজাররা দাবি করছেন।

চা-শ্রমিকদের ধারাবাহিক কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কারণে সিলেট ও চট্টগ্রামের ১৬৭টি চা-বাগানে দৈনিক প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যমানের চা-পাতা নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি বাগানমালিকদের। ধর্মঘট চলাকালে চা-পাতা উত্তোলন এবং ফ্যাক্টরিতে চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকেরা। কাজ বন্ধ রাখায় ফ্যাক্টরিগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের অপেক্ষায় থাকা চা-পাতাগুলো যেমন পচে নষ্ট হচ্ছে। তেমনি বাগান থেকে সময়মতো চা-পাতা উত্তোলন না করায় তা-ও প্রক্রিয়াজাতের অনুপযোগী হচ্ছে। এ বছর ভর মৌসুমে শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে চা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ বন্ধ রাখাসহ ক্রমবর্ধমান লোডশেডিংয়ে চা-পাতা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গেল কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই ১৫-১৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির ঐ পরিসংখ্যান আরো বাড়বে এমনটিই তথ্য দিচ্ছেন চা-বাগান মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

কমলগঞ্জের সফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন চা-বাগান ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিদিন একেকটা বাগানে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। চা-শ্রমিকেরা বলছেন, ১২০ টাকার মজুরিতে আধা কেজি কাঁচা মরিচও কেনা যায় না। অভাব-অনটনের সংসারে এক বেলা আধাবেলা খেয়ে দিন কাটছে। কথাগুলো বললেন আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিক দয়াশংকর রবিদাস, নারী শ্রমিক কুন্তি নুনিয়া ও মালতি কুর্মি। এদিকে চা-শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আজ বিকালে ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ধনাবাউরী জানান।

ইত্তেফাক/ইআ