বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গরিব মধ্যবিত্তদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে: ফখরুল

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৯

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের জাঁতাকলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। জ্বালানি তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতির কফিনে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দেওয়া হয়েছে। গরিব-মধ্যবিত্তদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের আয় দিয়ে আর চলতে না পারায় স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে অনেকেই ফ্যামিলি বাসা ছেড়ে উঠেছেন মেসে। কাঁচাবাজার থেকে একটি পরিবারের যা যা কিনতে হয়, তার প্রায় সব কিছুরই দাম আরেক দফা বেড়েছে। এই তালিকায় চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা আছে, তেমনি আছে সবজি, ডিম, মুরগির দাম। পিছিয়ে নেই মাছ ব্যবসায়ীরাও। এই মূল্যবৃদ্ধি সেসব সীমিত আয়ের মানুষের ওপরে সরাসরি আঘাত, যারা ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতিতে নাকাল।

বুধবার (১৭ আগস্ট) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কখনোই প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা বিশ্বাস করি না। এটা এ কারণে যে, তারা যা বলে তা করে না। ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হবে না, আন্দোলন দমন করা হবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এই কথার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আমরা বলেছি, তাদের সব কথাবার্তায় তারা প্রতারকের ভূমিকা পালন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের কিছু সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী চক্রের হাতে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা জিম্মি হয়ে আছে। মূল্যবৃদ্ধির এই দুর্নীতিবাজ চক্রের শীর্ষ অবস্থানে আছে সরকারের চালিকা শক্তিরাই। সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? রক্ষক যখন ভক্ষক হয় তখন যা হওয়ার তাই হচ্ছে বাংলাদেশে। তিনি বলেন, এখানকার যে মূল্যস্ফীতি, এখানে যে অর্থনৈতিক দুরবস্থার সবকিছুর মূলে সরকারের দুর্নীতি। এই দুর্নীতির কারণেই দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, তাদের দুর্নীতির কারণে আজকে সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার দাপটে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্ররা পিষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকারের দুর্নীতি, টোটাল ফেইলিওর, অব্যবস্থাপনার কারণে আজ এই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।

‘যেখানে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই, সরকার সেখানেই টাকা দিচ্ছে’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপরে নিয়ে গেল। এয়ারপোর্টের রাস্তার সমস্যা, এখানে প্রতি কিলোমিটারে ২৩০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ কী অবস্থা? ১০ বছরে এখন পর্যন্ত এই অবস্থা। অর্থাৎ এসবের মূল কারণটাই হচ্ছে দুর্নীতি। জ্বালানি তেলের বেলায় কী দুর্নীতি করেছে, বিপিসি একইভাবে দুর্নীতি করেছে। বিদ্যুতের বেলায় দেখেছেন, তারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। সেই কারণে আজকে এই দুর্নীতি হচ্ছে। হয়তো বিশ্ববাজারের কারণে সহনীয় পর্যায় কিছু হতে পারত। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতির কারণে।

ইত্তেফাক/এমআর