বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে জেপির আলোচনাসভা 

বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ইতিহাসে বিরল: ড. হাছান মাহমুদ

  • বঙ্গবন্ধুর মত জাতীয়তাবাদী নেতার মৃত্যু হয় না: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
  • শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা: দিলীপ বড়ুয়া 

 

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৪১

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাঙালিদের সব সময়ই ছিল। হাজার বছরের সেই ঘুমন্ত বাঙালিকে জাগিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শিখিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত করেছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ নিজের জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বিশ্ব ইতিহাসে এমন নেতা বিরল।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি-জেপি আয়োজিত ‘স্মৃতি তর্পণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

হাছান মাহমুদ বলেন, বাঙালিদের হাতেই বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হয়েছিল, এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। ’৭৫-এর পর যেসব দল দম্ভ করে বলত—বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কোনো দিন হবে না এবং আওয়ামী লীগও কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে না; তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকেও বলা হয়েছিল—বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইলে তিনি ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্ত কখনো আপস জানে না, তার কন্যা শেখ হাসিনা আপস করেননি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, রায় কার্যকর হয়েছে। যেসব খুনি এখনো পলাতক তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ৫০, ১০০ কিংবা ২০০ বছর পর যারা এই বাংলাদেশে থাকবেন তাদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। কেননা দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য—এই ষড়যন্ত্রের মূল কুশীলব জিয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। ইতিহাসের পাতায় যে কালিমা লেপন করা হয়েছে, সেটি মুছে ফেলতে তখন কার কী ভূমিকা ছিল সেটা যদি প্রকাশ করা হয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয়তাবাদী নেতার মৃত্যু হয় না: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আলোচনাসভায় সভাপতিত্বকারী জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয়তাবাদী নেতার কখনো মৃত্যু হয় না। তারা বারে-বারে ফিরে আসেন। ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়ার কোনো কোনো দেশেও জাতীয়তাবাদী নেতাদের হত্যা করে মনে করা হয়েছিল তাদের বিশ্বাস-আদর্শকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। সেটি ল্যাটিন আমেরিকায় যেমন সত্য হয়নি, তেমনি বাংলাদেশেও সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধুর জীবন যেমন সংগ্রামের, তেমনি দুঃখ-কষ্টের। পৃথিবীতে খুব কম জাতীয়তাবাদী নেতাই জাতি গঠনে সক্ষম হয়েছেন। সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু অনন্য। তিনি খুব অল্প সময়ে জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছেন। যেখানে সংবিধান রচনায় পাকিস্তানের অনেক সময় লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু জাতিকে পথনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছিলেন।

শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা: দিলীপ বড়ুয়া

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, শেখ হাসিনাই আমাদের একমাত্র বাতিঘর। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই আমরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারব। শেখ হাসিনার বিকল্প কি বিএনপি বা খালেদা জিয়া? না। শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনাই।

শুধু একটি পতাকা ও মানচিত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ করেননি: শেখ শহীদ

জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একটি পতাকা কিংবা একটি মানচিত্রের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল কতগুলো মূল্যবোধ। গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন ছিল এর অন্যতম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করা গেলেই মানুষে-মানুষে বৈষম্য থাকবে না।

তিনি বলেন, রাজনীতি এমন এক জিনিস, ক্ষমতায় যে দলই থাকুক অহংকার করতে নেই। এ দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নতুন প্রজন্মকে দীক্ষিত করা গেলে তবেই আগামী দিনে মুজিব-আদর্শকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

স্বাধীনতারিবোধীদের আবার আস্ফালন দেখছি: শিরীন আখতার

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, যারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় পরিচালিত করতে চেয়েছিল, আবারও তাদের আস্ফালন দেখছি। বিরোধিতায় আপত্তি নেই, কিন্তু যখন দেখি তারা দেশের সংবিধান, নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন মানে না, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চায়, তখন বুঝি একটা সংকট। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে।

অন্যরা যা বললেন

১৪ দল শরিক বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা একই সূত্রে গাঁথা। জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক সিদ্দিকী বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা অতীতে ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হবে।

জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালাহউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কেন, কীভাবে কারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করল, সেটি উদ্ঘাটন করা জরুরি। জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।

জেপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে আজ বাংলাদেশ অনেক দূরে। তার নীতি-আদর্শ ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

জেপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের সম্পদ নয়, তিনি গোটা জাতির সম্পদ। যে যেই দলই করুক না কেন, বঙ্গবন্ধুকে মেনেই এ দেশে রাজনীতি করা উচিত। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ইত্তেফাক/এএএম