বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রাইভেটকারে শিক্ষক দম্পতির লাশ, স্বজনদের দাবি হত্যা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০১:৪৮

গাজীপুরের টঙ্গী শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম জিয়াউর রহমান মামুন (৪৮) ও তার স্ত্রী টঙ্গী বাজার এলাকার আমজাদ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাহমুদা আক্তার জলির (৩৫) লাশ নিজস্ব প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর গাছা থানার বগারটেকের জয়বাংলা সড়কের ঢাল থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্হায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বাসা গাছা থানার কামারজুরি এলাকায়।

নিহত শিক্ষকের ছেলে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌসিফুর রহমান মেরাজ হোসেন জানান, তার বাবা-মা টঙ্গীতে আলাদা স্কুলে চাকরি করেন। তারা একসঙ্গে নিজেদের প্রাইভেটকারে যাওয়া আসা করতেন। স্কুলের কাজ শেষে বুধবার বিকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাবার স্কুল থেকে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন বাবা। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তিনি মাকে ফোন দেন। রিসিভ করে মা জানান, ‘পথে আছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় আসছি’। 

এরপর দীর্ঘক্ষণ পরও না আসায় ফের ফোন করেন মেরাজ। রিং বাজলেও বাবা-মা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। রাতভর তাদের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বড় চাচা আতিকুল ইসলামকে নিয়ে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বগারটেকের ঢালে গিয়ে তাদের প্রাইভেটকারটি দেখতে পান। বাবা চালকের আসনে এবং মা বাবার পাশের সিটে অচেতন অবস্হায় বসা ছিল। ঐ সময় গাড়ির দরজা খোলা ছিল। প্রথমে বড়বাড়ীর তায়রুন নেছা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক জানান, অনেক আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তার বাবার ব্যাগে স্কুলের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মায়ের শরীরে ২-৩ ভরি স্বর্ণালংকার এবং তাদের দুই জনের দামি মোবাইল সঙ্গে ছিল। এসব কিছুই খোয়া যায়নি।

তাদের হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মেরাজ জানান, তার বাবা-মার সঙ্গে কারো শত্রুতা ছিল না। তিনি বাবা-মার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

নিহত মামুনের ভগ্নিপতি মাওলানা আবদুর রশিদ জানান, ২০ বছর সংসার করার পর ১০ বছর আগে মেরাজকে রেখে মামুনের প্রথম স্ত্রী ক্যানসারে মারা যান। এর দুই বছর পর জলিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মামুন। আট বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। তাদের ধারণা, মামুন ও তার স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষিকা জলির মা শামসুন্নাহার বলেন, জলি মেরাজকে নিজ সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন। বুধবার সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে জলির সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হলে জানিয়েছিল কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরবে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ নন্দলাল চৌধুরী জানান, নিহত মামুন ও তার স্ত্রী বাড়ি থেকে নেওয়া খাবার খেতেন। প্রাইভেটকারে খাবারের বাটি ছিল। ঐ বাটি জব্দ করেছে সিআইডি পুলিশ। তারা গাড়িটিও জব্দ করেছে। স্কুল এবং পথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ দেখে মৃত্যুর ক্লু বের করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, সুরতহালে শিক্ষক দম্পতির শরীরে আঘাতের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে মাঠে একাধিক টিম কাজ কারছে। বিকালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাইমিন আহমেদ জানান, নিহতদের শরীরের অভ্যন্তরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো পূর্বের না মৃত্যুর সময়ের তা মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া বিষক্রিয়ার বিষয়টি জানার জন্য দুজনের পাকস্হলি কেমিক্যাল টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি