বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাসে ২৪০০ টাকার স্টিকারে চলছে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত রিকশা

তেজগাঁওয়ে ফুটপাতে ক্লাব বসিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এ স্টিকার

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:০৮

ফুটপাতের ওপর চেয়ার টেবিল আর ওপরে ত্রিপল দিয়ে খোলা হয়েছে ক্লাব। সেখানে সাইনবোর্ডে লেখা ছয় নম্বর ইউনিট যুবলীগ। তেঁজগাওয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের বিপরীত পাশে স্হাপিত এই ক্লাব থেকে দেওয়া হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার স্টিকার, যে স্টিকার থাকলে সড়কে চলতে পারবে এসব রিকশা। আর এ স্টিকার নিতে গুনতে হবে ২ হাজার ৪০০ টাকা। তাও সেটি এক মাসের জন্য। এভাবেই চলছে রাজধানীর তেঁজগাওয়ে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা। অবৈধ এসব রিকশার কারণে গড়ে উঠেছে গ্যারেজও। যেখানে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয় চার্জ,এতে অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি মাসে ‘রিক্সা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ নামে আলাদা করে এ স্টিকার নিতে হয় চালকদের। আর এটি না থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লাইনম্যানরা সড়কে রিকশা চলতে দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে চালকরা প্রতিমাসেই এটি নবায়ন করেন। মান্নান ও বেলাল নামে দুই জন ফুটপাত দখল করে এ ক্লাব চালান বলে জানান চালকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে আছেন কয়েকজন। এর পাশেই দাঁড় করিয়ে রাখা ১০টির মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা। আর অন্যপাশে সারিবদ্ধ ট্রাক।

নাবিস্কো এলাকায় এসব ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল করছে বলে জানায় চালকরা। প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার রিকশা এই ক্লাবের মাধ্যমে চলছে বলে জানায় চালকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রিকশাচালক বলেন, ‘যা কামাই, তার মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই তারা নিয়ে যায়। রিকশার জমা ও তাদের ২ হাজার ৪০০ টাকা দেওয়ার পর আমাদের তেমন কিছু থাকে না। আবার না দিয়েও উপায় নেই, না দিলে পুলিশ ডিষ্টার্ব করে। লাইনম্যান গাড়ি আটকে রাখে। তাই বাধ্য হয়ে দিতে হয়।’

আরেক রিকশাচালক জানান, আসলে তাদের কিছু বলে লাভ নাই। উলটো কিছু বললে আরো টাকা বেশি করে নেবে। এই ব্যাটারিচালিত রিকশা গ্যারেজে অবৈধ বিদু্যত্ লাইনে চার্জ দেয় বলেও তারা জানান। বেশির ভাগ চালকই ভাড়ায় এটি চালান। নিষিদ্ধ এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদু্যত্ লাইন। অনেক স্হানে চলছে মিটার টেম্পারিংয়ের মতো ঘটনা। বিদু্যত্ বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐ সব অবৈধ সংযোগ দেন অর্থের বিনিময়ে। ফলে প্রতিদিন উত্পাদিত বিদু্যতের একটা বড় অংশ গিলে খাচ্ছে এই ব্যাটারিচালিত রিকশা।

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবসা করছে। আর প্যাডেলচালিত রিকশার চেয়ে এর গতি বেশি হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার শিকার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এতে অনেক পরিবারই নিঃস্ব হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষিদ্ধের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্হা নেওয়া হচ্ছে না। বরং দিন দিন এসব যানের সংখ্যা বাড়ছেই। অন্যদিকে গত ২৮ জুলাই একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। 

আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি রাস্তা-মহল্লায় অটোরিকশায় সয়লাব। একেকটা অটোরিকশায় চারটি করে ব্যাটারি থাকে। সারাদিন চালানোর পর এগুলো সারারাত ধরে চার্জে রাখা হয়। এই অটোরিকশাগুলো বিদ্যুৎ বিধ্বংসী। এতে প্রচুর বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। শহরে আগে প্রচুর পায়েচালিত রিকশা চলত। এখনো চলে। আমরা তো পায়েচালিত রিকশা বন্ধ করে দিচ্ছি না। যে অটোরিকশা চালাত, সে পায়েচালিত রিকশা চালাবে।’ মেয়রের এমন ঘোষণার পরেও উত্তর সিটির বিভিন্ন অলি গলিতে চলছে এমন ব্যাটারিচালিত রিকশা।

এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড তেঁজগাও এলাকার কাউন্সিলর মো. সফিউল্লাহ সফি বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে জানা নেই। আমি খোঁজ নেব। এমন চললে আমি এটি উচ্ছেদ করার জন্য বলব।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি