শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বক্তব্য অন্যভাবে উপস্থাপন হলে দুঃখ লাগে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ২১:৩৪

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এর দেওয়া গতকালকের বক্তব্যকে মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘দেশে সবার বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তাই সবাই সব কথা বলতে পারেন। তবে বক্তব্য অন্যভাবে উপস্থাপন হলে দুঃখ লাগে।’ তিনি মিডিয়াকে একটু সহনশীল হওয়ার অনুরোধ জানান। 

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পক্ষে গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শোকাবহ আগস্টের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অনুরোধ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘গতকাল আমি বলেছি শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি আছে। অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে সবার মঙ্গল হবে। আর এদেশে যত নাগরিক আছে সে যেকোনো ধর্মের হোক সবার সমান অধিকার। শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন তাহলে স্থিতিশীলতা থাকে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই আমাদের উন্নয়নের মশাল অব্যাহত থাকবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

পাররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসামে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। আমি বলেছি কেন? তিনি বলেছেন কারণ শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেই সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় না দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন। এসব কারণে আসাম ও মেঘালয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা নেই। তাদের দেশে বহু উন্নয়ন হচ্ছে। ইনভেস্টমেন্ট আসছে। শেখ হাসিনার আহ্বানে এটা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছি, আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী স্থিতিশীলতার কথা বলেছে। স্থিতিশীলতায় আমাদের দেশেরও মঙ্গল হচ্ছে। আপনার দেশেরও মঙ্গল হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হচ্ছে। সুতরাং স্থিতিশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ অঞ্চলে কোন ধরনের অস্থিতিশীলতা চাই না। এটা যদি আমরা করতে পারি তা হলে সোনালী অধ্যয় যথার্থ হবে। ভারতকে বলেছি, কিছু কিছু লোক সময় সময় উস্কানিমূলক কথা বলে। আপনদের দেশে যেমন দুষ্ট লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে। তারা তিলকে তাল করে। আপনাদের ও আমদের সরকারের দায়িত্ব আছে। তিলকে তাল করার সুযোগ সৃষ্টি করে না দেওয়া। তা হলে আমরা পারস্পারিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারব। কোন ধরনের অস্থিরতা থাকবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি সব সময় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান বলেও ভারতে বলেছি।’

এর আগে তিনি জাতির পিতার সমাধিসৌধ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধু ও ৭৫ এর ১৫ অগেস্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক ফোরকান বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/এএএম